ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরেক সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি হাদির নির্বাচনি প্রচারে উপস্থিত থাকতেন এবং গুলিবর্ষণকারী মূল দুই সন্দেহভাজনের সঙ্গে তার সরাসরি যোগাযোগ ছিল। ডিজিটাল অনুসন্ধানী মিডিয়া দ্য ডিসেন্ট সন্দেহভাজন তৃতীয় ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করেছে। তার নাম জাকির হোসেন ওরফে ‘জিন জাকির’। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের শৌলমারী এলাকায় এবং তিনি রাজধানীর মিরপুরে বসবাস করতেন।এদিকে, এই তিনজনকে ধরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা। তিনি গত শনিবার ফেসবুকে হাদির একটি যৌথ ছবি পোস্ট করে এই আহ্বান জানান। পোস্ট করা ছবিতে দেখা যায়, হাদির পাশে আরও পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তি দাঁড়িয়ে আছেন, যাদের মধ্যে তিনজনকে নীল বৃত্ত দিয়ে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ক্যাপশনে জুমা লেখেন, এই তিনজনকে যে কোনো মূল্যে ধরিয়ে দিন। বাংলাদেশের জনতা আপনারাই ইনকিলাব কর্মী, আপনারাই এই ভার হাতে নিন। প্রশাসন আমাদের আপডেট দেওয়ার বদলে উল্টো আমাদের কাছেই আপডেট চাইছে।ছবিতে চিহ্নিত তিনজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় আগেই জানা গেছে। তাদের একজন হাদিকে গুলিবর্ষণকারী মূল সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং অন্যজন তার মোটরসাইকেলচালক আলমগীর হোসেন। তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা চাপদাড়ি মুখের ব্যক্তিটিই জাকির হোসেন। গত বছরের ১২ অক্টোবর রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় তার বিরুদ্ধে একটি ডাকাতির মামলা হয় এবং সেদিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। একই মাসের ২৭ তারিখ কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তি জাকির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে গাবতলী থানায় আরেকটি ডাকাতির মামলা দায়ের করেন। এর আগে ১৩ অক্টোবর ডিএমপির ফেসবুক পেজে জাকির হোসেন ও তার দুই সহযোগীর ছবি প্রকাশ করা হয়।ডিএমপির পোস্টে জানানো হয়, ১২ অক্টোবর ২০২৪ দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় সরাসরি জড়িত তিন ডাকাতকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ১৩ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুই লাখ বিশ হাজার টাকা, প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার এবং দুটি আইফোন উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শরীফুল ইসলাম তুষার (৩৫), জাকির হোসেন (৩৭) ও মাসুদুর রহমান (৪৭)। মামলার এজাহারে জাকিরের নাম উল্লেখ করা হয় ‘জাকির হোসেন ওরফে জিন জাকির’।ফেসবুকে জুমার পোস্টের পর দ্য ডিসেন্ট গাবতলী থানায় মামলা দায়েরকারী কামাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাকে ডিএমপির পেজে প্রকাশিত ছবি এবং জুমার পোস্টে থাকা ছবির ব্যক্তিকে দেখিয়ে পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিশ্চিত করেন, দুই ছবিতে একই ব্যক্তি রয়েছে এবং তিনিই ২০২৪ সালে তার বাসায় সংঘটিত ডাকাতির নেতৃত্ব দেন। তিনি জানান, ডাকাতির সময় তারা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে বাসায় ঢুকেছিল। পরে মোহাম্মদপুরে আরেকটি ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ তাদের আটক করলে তিনি থানায় গিয়ে জিন জাকিরকে শনাক্ত করেন।প্রসঙ্গত, অ্যাডভোকেট ওমর সাদমানীর করা পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি আতাউর রহমান ও বিচারপতি আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত জুলাই মাসে জাকির হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেন এবং ওই মাসেই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর আগে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য মোহাম্মদ ওসামা জানান, হাদির ওপর গুলিবর্ষণে জড়িত ব্যক্তিরা ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তার নির্বাচনি প্রচার টিমে যুক্ত হয়েছিল। তবে মাঝখানে কয়েকদিন তাদের প্রচারে দেখা যায়নি, পরে আবার কয়েকদিন আগে তারা ফিরে এসে প্রচার কার্যক্রমে অংশ নেয়।



