বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeধর্মমদিনায় মুসলিম খিলাফত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা

মদিনায় মুসলিম খিলাফত রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা

ইন্তেকালের আগে নবীজি (সা.) মুসলিমদের রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য কাউকে নির্দিষ্টভাবে নিযুক্ত করেননি এবং শাসক নির্বাচন পদ্ধতিও ঠিক করেননি, তবে যেসব সাধারণ মূলনীতি ও মৌলিক বিধান জনগণের সঙ্গে আচরণ এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় আবশ্যক সেগুলো তিনি নির্দিষ্ট করেছেন। নিজের জীবনাচার ও বাণী-বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এমন উত্তম আদর্শ মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন, যেগুলো শাসক ও শাসিত উভয়েরই মান্য করা অপরিহার্য। ইসলাম ইজতিহাদ ও কোরআন-সুন্নাহয় অনুল্লিখিত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রেখেছে এবং সময়, স্থান, প্রজন্ম, সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতির পরিবর্তনসহ শাসনব্যবস্থাকে প্রভাবিত করা বিষয়গুলোতে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) শাসক নির্বাচন এবং শাসনব্যবস্থার রূপ নির্ধারণের দায়িত্ব মানুষের ওপর ন্যস্ত করেছেন, যাতে তারা নিজেদের সময়, স্থান ও পরিস্থিতি অনুযায়ী উপযুক্ত শাসন পদ্ধতি ও উত্তম শাসক নির্ধারণ করতে পারে। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর সাহাবিরা উপলব্ধি করেন, মুসলিম উম্মাহর জন্য একজন খলিফা নির্ধারণ করা প্রধান কর্তব্য। মদিনার আনসার সাহাবিরা বনু সাকিফার প্রাঙ্গণে খাজরাজ গোত্রের নেতা সাদ ইবনু উবাদা (রা.)-কে কেন্দ্র করে সমবেত হন এবং মুহাজিররা অন্য স্থানে সমবেত হন। মুহাজিররা জানেন যে আনসারের সঙ্গে আলোচনা ছাড়া আলাদা সিদ্ধান্তে রাষ্ট্রের একতা ও কার্যক্রমের ক্ষয় হতে পারে। তাই আবু বকর, উমর ও আবু উবাইদা (রা.)-এর প্রজ্ঞা ও হিকমতের প্রভাবে মুহাজিররা আনসারদের সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন। আনসাররা মুহাজিরদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা ক্ষুদ্র এক গোষ্ঠী, কিছু মানুষ আমাদের অধিকার বঞ্চিত করতে চাইছেন।’ উমর (রা.) কিছু বলতে চাইলে আবু বকর (রা.) তাকে থামিয়ে আনসারদের প্রশংসা করে বললেন, ‘নবীজির খলিফা হওয়ার অধিকার কুরাইশদের রয়েছে। কুরাইশদের মধ্যে দুইজনের নাম আমি প্রস্তাব করছি—উমর ইবনুল খাত্তাব ও আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ।’ উমর (রা.) এই প্রস্তাবে মনঃপূত হননি। আবু উবাইদা (রা.) জানান, ‘যে উম্মতের মধ্যে আবু বকরের মতো মানুষ আছে, তাদের নেতা হওয়ার সাহস আমার নেই।’ আনসারদের একজন প্রস্তাব দিলেন, কুরাইশদের একজন ও আনসারের একজন নির্বাচন করলে কেমন হবে, তবে এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অবশেষে উমর (রা.) আবু বকরের হাত ধরেন এবং খিলাফতের বায়াত গ্রহণ করেন। মুহাজিররা তার দেখাদেখি এবং আনসাররাও আনন্দে তাকে খলিফা হিসেবে স্বীকার করেন। এভাবে আবু বকর (রা.) মুসলিম জাহানের খলিফা নির্বাচিত হন এবং মদিনার বুকে নতুন খিলাফত রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপিত হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments