বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeধর্মসম্পদ আছে, কিন্তু জাকাত নেই—ঈমান কোথায়?

সম্পদ আছে, কিন্তু জাকাত নেই—ঈমান কোথায়?

‘ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় জাকাত’—এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শুরু হয়েছে চতুর্দশ জাকাত ফেয়ার ২০২৬। অন্তর্বর্তী সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন জাকাত ফেয়ার উদ্বোধন করেছেন। শনিবার বেলা ১০টায় রাজধানীর বেইলি রোডে অফিসার্স ক্লাবে সেমিনারটি শুরু হয়। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেডএম) আয়োজিত এই ফেয়ারের উদ্দেশ্য হচ্ছে বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, জাকাতকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে সিজেডএম-এর অবদান অনেক। ইসলামে এক হাজার বছর আগেও জাকাত রাষ্ট্রীয়ভাবে আদায় করা হতো, ব্রিটিশ ও মুঘল আমলে এসে সেটা ব্যক্তি পর্যায়ে পরিণত হয়, এতে জাকাতের গুরুত্ব কমে যায়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যৌনকর্মকে পেশা হিসেবে নেওয়া দুঃখজনক, জাকাত যদি সঠিকভাবে আদায় হতো তাহলে এই পেশা বেছে নিতে হতো না। তিনি আরও বলেন, স্বামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা জাকাত দেয় না, তাদের ঈমান নেই। জাকাত কোনো দান-দক্ষিণা নয়, বরং এটা গরিবের হক, তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, আজকের পৃথিবী গভীর দার্শনিক সংকটে পড়েছে—গন্তব্য, পথ ও উপকরণ—এই তিনটি জায়গাতেই সংকট রয়েছে। তিনি বলেন, সিজেডএমের উদ্যোগের বৈশ্বিক গুরুত্ব আছে এবং জাকাতের শুধু আর্থিক নয়, নৈতিক দায়িত্বও আছে। জাকাত দেওয়ার পর অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে সেটার তদারকিও জরুরি। স্বাগত বক্তব্যে সিজেডএমের সিইও ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, এক যুগের বেশি সময় ধরে জাকাত ফেয়ার আয়োজনের উদ্দেশ্য একটাই—ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা। আমাদের দেশে অনেকে জাকাত দেন না, যারা দেন তারাও সঠিকভাবে দেন না, তাই সচেতনতা বাড়ানোই লক্ষ্য। তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে নয়, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে জাকাত দিলে দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব। দেশের ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে ৪ কোটি মানুষ দরিদ্র—এটি আয়ের বৈষম্যের চিত্র, আর্থিক বৈষম্য হ্রাসে জাকাত বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments