ইসলামি শরীয়তে জানাজা নামাজ একটি বিশেষ ইবাদত। এটি ‘ফরজে কিফায়া’, অর্থাৎ সমাজের কিছু লোক আদায় করলে বাকিরা গুনাহ থেকে বেঁচে যায়। ব্যক্তিগতভাবে নামাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অভাবনীয় সওয়াব ও আধ্যাত্মিক উপকারিতা অর্জন করা যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে জানাজায় অংশগ্রহণের ফযিলত অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে।জানাজা নামাজে অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো ‘কিরাত’ পরিমাণ সওয়াব। হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মৃত মুসলমানের জানাজায় সওয়াবের আশায় অংশগ্রহণ করে এবং নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত অবস্থান করে, সে এক কিরাত সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি জানাজা পড়ে দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করে, সে দুই কিরাত সওয়াব অর্জন করবে। প্রতিটি কিরাত ওহুদ পাহাড়ের সমান বিশাল।মৃত ব্যক্তির জন্য সুপারিশের সুযোগও থাকে। হাদিসে এসেছে, যদি কোনো জানাজায় ৪০ বা ১০০ জন স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে, যারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করে না, তবে আল্লাহ মৃত ব্যক্তির জন্য তাদের সুপারিশ কবুল করেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেন।জানাজা নামাজ মানুষকে মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং অন্তর কোমল করে। এটি মুসলিম ভ্রাতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন এবং মৃত ব্যক্তির শেষ বিদায়ে পাশে থাকার মাধ্যম। শুধুমাত্র জানাজা পড়েই চলে গেলে হয়, কিন্তু দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকার সওয়াব দ্বিগুণ।



