বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়বাংলাদেশ-ইইউ সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি শিগগিরই চূড়ান্ত হবে

বাংলাদেশ-ইইউ সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি শিগগিরই চূড়ান্ত হবে

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও বাংলাদেশের মধ্যে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শিগগিরই চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছেন ইইউ’র এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইউরোপীয় এক্সটারনাল অ্যাকশন সার্ভিসের (ইইএএস) এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি ঢাকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় সমন্বিত অংশীদারিত্ব ও সহযোগিতা কাঠামো চুক্তি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।পাওলা পাম্পালোনি বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর সাধারণ অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় সম্পর্ক পরিচালনার পর ২০২৪ সালের নভেম্বরে সমন্বিত অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তিনি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক কাজের প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন, ইইউ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে এই সংস্কারকে গুরুত্ব দেয়।ইইউ কর্মকর্তা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংস্কার ইউরোপীয় ইউনিয়ন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে এবং পিসিএ চুক্তিতে অগ্রগতিকে স্বাগত জানায়। এই চুক্তি দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় সুযোগ তৈরি করবে।জবাবে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ১৭ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে ইইউর ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, পিসিএ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চুক্তি, যা বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।পাওলা পাম্পালোনি জানান, বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইইউ। এরই প্রতিফলন হিসেবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইইউ একটি উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশনের প্রধান চলতি সপ্তাহেই বাংলাদেশে আসবেন এবং রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, রাজনৈতিক দলগুলো গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে এবং সরকারের অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ হবে।পাওলা পাম্পালোনি বলেন, সফল গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পর বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে, যা ঢাকা ও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক জোটের মধ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। সাক্ষাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments