বিয়ে মানেই আনন্দ আর নতুন জীবনের স্বপ্ন। কিন্তু ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় একটি বিয়েকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে চরম নাটকীয়তা। বাসররাতে নববধূর মেকআপ ধোয়ার পর বর দাবি করেছেন, যাকে দেখে তিনি বিয়ে করেছিলেন, এই কনে সেই নারী নন। এই ‘কনে বদল’ বিতর্ক শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত, যার জেরে বরকে এখন কাটাতে হচ্ছে জেলহাজতে। গতকাল সোমবার ঠাকুরগাঁও আদালত বর রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ ও বরের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ আগস্ট পীরগঞ্জ উপজেলার রায়হান কবিরের সঙ্গে রাণীশংকৈলের জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের বিয়ে হয়। বরের পরিবারের দাবি, বিয়ের আগে ঘটকের মাধ্যমে যে মেয়েকে দেখানো হয়েছিল, রায়হান তাকেই পছন্দ করেছিলেন। বরের অভিযোগ, রাতভর কনের মুখ ভারী মেকআপে ঢাকা ছিল। কিন্তু ভোর ৪টার দিকে বাসররাতে নববধূ মুখ ধোয়ার সাথে সাথেই রায়হান দাবি করেন, এই মেয়েকে তাকে আগে দেখানো হয়নি; ঘটক ও কনেপক্ষ পরিকল্পিতভাবে মেয়ে পরিবর্তন করে প্রতারণা করেছে। এই ঘটনার পরদিন ২ আগস্ট কনেকে তার বাবার বাড়িতে ফেরত পাঠিয়ে দেয় বরপক্ষ।
এদিকে কনে বদলের এই অভিযোগকে ‘হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন কনের বাবা জিয়ারুল হক। তার দাবি, বিয়ের আগে বরপক্ষ বাড়িতে এসেই মেয়েকে দেখে গিয়েছিল। ৭০ জন বরযাত্রীর সামনে কনে বদল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, বিয়ের পরদিনই বরপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার মেয়েকে অপবাদ দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং সামাজিকভাবে হেয় করা হচ্ছে।
এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান আসেনি। শেষ পর্যন্ত গত ২৭ আগস্ট কনের বাবা বর রায়হান কবিরের বিরুদ্ধে যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা করেন। এর পাল্টা জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবিরও কনের বাবা ও ঘটককে আসামি করে প্রতারণার মামলা করেন। গতকাল উভয় মামলার শুনানি শেষে আদালত রায়হানের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঠাকুরগাঁওজুড়ে এখন এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।



