নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
‘কোনো পাগল বা ভবঘুরেকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত হতে দেখলেই তাদের “থার্টি ফোর” বা “সানডে মানডে ক্লোজ” করে দিতাম।’ সাভারের পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আলোচিত খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এভাবেই নিজের খুনি নেশার কথা বর্ণনা করেছেন মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০)।
পুলিশ জানায়, সম্রাট কোনো সাধারণ পাগল নন, বরং একজন ‘সাইকোপ্যাথ’ বা ঠান্ডা মাথার সিরিয়াল কিলার। হত্যার পর মৃতদেহকে তিনি তাঁর সংকেতিক ভাষায় ‘থার্টি ফোর’ বলে ডাকতেন। গত সাত মাসে সাভারে ছয়টি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে গতকাল সোমবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
সাভার মডেল থানা ও ডিবি পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, সম্রাটের ‘কিলিং মিশন’ শুরু হয় ২০২৫ সালের ৪ জুলাই। ওই রাতে সাভার মডেল মসজিদের পাশে আসma বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার মাধ্যমে তাঁর খুনের হাতেখড়ি হয়। এরপর থেকে তিনি সাভারের পরিত্যক্ত পৌর কমিউনিটি সেন্টারকে তাঁর খুনের আস্তানায় পরিণত করেন। ২৯ আগস্ট এক যুবকের হাত-পা বেঁধে হত্যা, ১১ অক্টোবর এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ এবং ১৯ ডিসেম্বর আরও এক যুবকের লাশ ওই ভবনের টয়লেট থেকে উদ্ধার করা হয়।
সবশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুজনকে হত্যার পর প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁদের মরদেহ পুড়িয়ে দেন সম্রাট। পরদিন রোববার দুপুরে আগুনে পোড়া লাশ দুটি উদ্ধারের পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। পরিত্যক্ত ভবনটির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সম্রাট একটি মরদেহ টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এর ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, সম্রাট দিনের বেলা থানার আশপাশেই ভবঘুরে সেজে ঘুরে বেড়াতেন এবং নিয়মিত পোশাক পরিবর্তন করতেন। গভীর রাতে তিনি ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বা ফুটব্রিজে ঘুমন্ত ভবঘুরেদের ফুসলিয়ে কমিউনিটি সেন্টারে নিয়ে আসতেন এবং সেখানেই তাঁদের হত্যা করতেন। সাভার মডেল থানার ওসি আরমান আলী জানান, সম্রাটকে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।



