ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। অনিয়ম-অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এদিকে লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র মহড়ার অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ২৬ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। শনিবার রাতে রামগতি থানায় মামলা দুটি করা হয় এবং ইতোমধ্যে দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চর পোড়াগাছা, রামদয়াল বাজার ও আলেকজান্ডার ইউনিয়নের বালুর চর সুজনগ্রাম এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয় এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ইটভাটা মালিকদের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চর পোড়াগাছা ইউনিয়নের ছিদ্দিক উল্লাহর ইটভাটায় গিয়ে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, শ্রমিকদের মারধর, কাজ বন্ধ করে দেওয়া ও মালিককে হত্যার হুমকির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া রামদয়াল বাজারে ব্যবসায়ী মনিরের দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। একইদিনে চর আলগী ইউনিয়নে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি গ্রুপ প্রকাশ্যে অস্ত্র মহড়া ও শক্তি প্রদর্শন করে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনায় রামগতি উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজ উদ্দিন ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মমিন উল্লাহ ইরাজ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চর রমিজ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী বেলাল উদ্দিন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহরিয়ার হান্নান, ইউপি সদস্য সুমন উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিরাজ হোসেন, আবুল কালামসহ যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ২৬ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, অভিযান চালিয়ে মিরাজ ও রিয়াজ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এমপি নিজান বলেন, “গণমানুষের দল বিএনপি। জননেতা তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী কেউ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বা নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত থাকলে তার দলে স্থান নেই। অপরাধীর পরিচয় সে অপরাধী—আইন অনুযায়ী বিচার হবে।” তিনি আরও বলেন, রামগতি-কমলনগরে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দল থেকে বহিষ্কারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



