ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন ছাড় দিতে চাইলেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বাঁধার মুখে মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেননি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী। মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও আসনটির প্রার্থী উপাধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসাইন মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। এ খবর জানতে পেরে সকাল থেকে তার নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় অবস্থিত ভাড়া বাসার ফটকে তালা দিয়ে গেইট আটকে রাখে কর্মী ও সমর্থকরা। দলীয় সূত্র জানায়, নরসিংদী-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি উপাধ্যক্ষ মো. আমজাদ হোসাইন। পরবর্তীতে ১০ দলীয় জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে আসনটি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী মো. গোলাম সারোয়ার (তুষার)-কে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত। এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে বাসা থেকে বের হওয়ার আগেই কয়েকশো কর্মী-সমর্থক বাসার গেইটে জড়ো হন, মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিরোধিতা করে গেট তালাবদ্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে সকাল থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত তিনি বাসায় অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকেন এবং মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে যেতে পারেননি। একপর্যায়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মোসলেহুদ্দিন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিতে বাসায় গেলে উত্তেজিত সমর্থকদের বাধা ও ক্ষোভের মুখে তাকেও ফিরে যেতে হয়। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রাকিবুল ইসলাম বলেন, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে আমজাদ হোসাইনকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল, আমরা তাকে নিয়ে দীর্ঘদিন মাঠে কাজ করেছি এবং জনগণের কাছে ভোট চেয়েছি, এখন হঠাৎ মনোনয়ন প্রত্যাহার করলে জনগণের কাছে দেওয়া কথা ভঙ্গ হবে। আরেক বিক্ষোভকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, আমজাদ হোসাইন এখন জনমানুষের নেতা, আমরা ১০ দলীয় জোট থেকে তাকেই চাই, এই সিদ্ধান্ত জনগণের রায়। এ বিষয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও প্রার্থী আমজাদ হোসাইন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। এদিকে, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে নরসিংদীর পাঁচটি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর মধ্যে নরসিংদী-২ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মনোনীত মো. ফারুক ভূইয়া এবং নরসিংদী-৩ আসনে গণফোরাম মনোনীত জগলুল হায়দার আফ্রিক প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। নরসিংদী-৫ আসনে বিএনপি থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি জামাল আহমেদ চৌধুরী। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন বলেন, বিকাল পাঁচটার মধ্যে দুইজন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন, নরসিংদী-২ আসনের প্রার্থী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমাদের অফিসে আসেননি।



