ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ডা. তাসনিম জারা। শনিবার ফেসবুকে তিনি তার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন। ইশতেহারে তিনি বলেন, ঢাকা–৯ এই শহরের প্রাণ হলেও এলাকাবাসীর সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়। গুলশান–বনানীর সমান ট্যাক্স ও বিল দিয়েও এখানকার মানুষ তৃতীয় শ্রেণির সেবা পায়। ভোটের সময় নেতারা আসে, ভোট নেয়, পরে উধাও হয়ে যায়। তিনি বলেন, আমি পেশাদার রাজনীতিবিদ নই, আমি এই এলাকার মেয়ে। ঢাকা–৯–কে অবহেলার দিন শেষ। গ্যাস না থাকলে বিল নয়—‘নো সার্ভিস নো বিল’ নীতির জন্য সংসদে আইন প্রস্তাব দেব, এলপিজির দাম সিন্ডিকেট ভেঙে নিয়ন্ত্রণে আনবো, জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পার্ক উন্নয়ন করবো। রাস্তা কাটলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করলে ঠিকাদারকে জরিমানা করা হবে। স্বাস্থ্য খাতে মুগদা হাসপাতালকে আধুনিক ও জনবলসমৃদ্ধ করা, কমিউনিটি ক্লিনিককে মিনি হাসপাতাল বানানো, সারা বছর ডেঙ্গু টাস্কফোর্স গঠন এবং নারীস্বাস্থ্য সুরক্ষার অঙ্গীকার করেন তিনি। নিরাপত্তায় মাদক সিন্ডিকেট উচ্ছেদ, সিসিটিভি ও ল্যাম্পপোস্ট বসানো, নারীবান্ধব পরিবহন নিশ্চিত করার কথা বলেন। শিক্ষা খাতে এমপির কোনো কোটা থাকবে না, স্কুলে সায়েন্স ল্যাব, লাইব্রেরি, কোডিং ও এআই শেখানোর ব্যবস্থা, শিক্ষক মর্যাদা ও অভিভাবক–শিক্ষক ফোরাম গঠনের প্রতিশ্রুতি দেন। অর্থনীতিতে তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ‘স্টার্ট-আপ ঢাকা–৯’ ফান্ড, কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও আইনি সুরক্ষা এবং ই-কমার্স প্রশিক্ষণের কথা বলেন। এমপির জবাবদিহিতায় এলাকায় স্থায়ী অফিস, ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, কোনো প্রটোকল ছাড়াই জনগণের কাছে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, এই ইশতেহার ফাঁকা বুলি নয়, এটি এলাকাবাসীর সঙ্গে আমার চুক্তি। ঢাকা–৯ এর ভাগ্য বদলাতে, গ্যাস-পানির অধিকার আদায় করতে এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়তে আসন্ন নির্বাচনে ‘ফুটবল’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।



