ভারতের কলকাতায় আয়োজিত বিজেপিঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক মঞ্চ ‘খোলা হাওয়া’র এক বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। দীর্ঘ আধা ঘণ্টার বক্তৃতায় তিনি অনুশোচনা ও স্বীকারোক্তির পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন নিয়েও কড়া হুঁশিয়ারি দেন। ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে ছাত্রদের মৃত্যুর দায় এতদিন সরাসরি স্বীকার না করলেও এবার তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওই আন্দোলনে যত নিরপরাধ ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে তার সম্পূর্ণ দায় তিনি নিজের কাঁধে নিচ্ছেন। আলোচনায় তিনি আরও বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের দাবি ন্যায্য ছিল এবং আদালতের নির্দেশে কোটা ফিরে আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়, যা সরকারের ব্যর্থতা। তবে তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত শেখ হাসিনার অডিওতে দেখা যায় জঙ্গিরা থানায় হামলা চালাচ্ছিল এবং আন্দোলনের আড়ালে থাকা কট্টরপন্থিরাই অগ্নিসংযোগ ও গোলমাল শুরু করেছিল। বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচন প্রসঙ্গ, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে আয়োজনকে ‘একতরফা’ ও প্রহসন বলে আখ্যা দেন এবং বলেন এটি এখন বিএনপি ও জামায়াতের দ্বিমুখী লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ভারতের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিএনপি আমেরিকার হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে এবং জামায়াত ও পাকিস্তান নেপথ্য থেকে প্রভাব বাড়াচ্ছে, যা ভারতের পূর্ব সীমান্তের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করে তিনি বলেন, জামায়াতকে বাংলাদেশের রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি হওয়া থেকে আটকানোর এটাই শেষ সুযোগ। বক্তব্যের শেষে তিনি ৫ থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে নিহত কয়েকশ আওয়ামী লীগ কর্মী ও পুলিশের দায়ভারও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দেন।



