বুধবার, এপ্রিল ১, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশঠাকুরগাঁওয়ে মনছুর আলী ফিলিং স্টেশনে ভোর রাতে পেট্রোল উধাও

ঠাকুরগাঁওয়ে মনছুর আলী ফিলিং স্টেশনে ভোর রাতে পেট্রোল উধাও

মোঃআশরাফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁওয়ে ভূল্লীতে মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল ও ডিজিল বিক্রিতে বিভিন্ন অনিয়ম, তেলের পরিমাণে কম ও কারসাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
এতে ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ জনগণ।
জানা যায়, সোমবার বিকাল ৫টা থেকে পেট্রোল বিক্রি শুরু হয় রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে হঠাৎ করেই তেল বিক্রি করা বন্ধ করে দেয় ফিলিং স্টেশন কতৃপক্ষ। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ সাধারণ ক্রেতাদের জানায়—পেট্রোল শেষ হয়ে গেছে, তেল নাই।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।
তেল থাকার পরেও পাম্প বন্ধ করে দেয় এবং তেল বিতরণের সময় বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কয়েকদফায় তেল বিক্রি করা বন্ধ করে দেয়।
জানা যায়, ভোররাতে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও তেল সিন্ডিকেটের অসাধু হাতেগোনা কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহীর কাছে তেল বিক্রি করে।
অসাধু ব্যবসায়ীরা জারকিন, বোতলে, ড্রামে করে নিজের চাহিদা মতো পেট্রোল তেল নিয়ে যায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পেট্রোল উধাও হয়ে যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মাঝে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক মোটরসাইকেল চালক জানান, ভোররাতে তারা তেল সড়িয়ে ফেলছে। আমরা ঘন্টা ঘন্টা তেলের জন্য বসে থাকি কিন্তু আমরা তেল পাইনা। এটা কী ধরনের সিন্ডিকেট করা হচ্ছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালকরা অভিযোগ করে বলেন, রাতেই সাধারণ জনগণকে তেল না দিয়ে ভোর ৪টার দিকে গোপনে জারকিনে তেল ভরে বেশি দামে বিক্রি করা হয়েছে। এতে করে প্রকৃত গ্রাহকরা তেল না পেয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
ফিলিং স্টেশনে তদারকি করতে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি না থাকার সুযোগে কেন তেল বিক্রি করা হলো, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। মজুদ তেলের হিসাব মিল না পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, রাত ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত পাম্পে মোট ২৪১৯ লিটার তেল বিক্রি হয়। পূর্বের মজুদ ৫৪৯ লিটারসহ মোট তেলের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৫৪৯ লিটার, যার মধ্যে তখনও ১১২৯ লিটার তেল অবশিষ্ট ছিল। এই তেল গেলো কোথায় প্রশ্ন আমারও।
এ বিষয়ে মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশন ম্যানেজার রহিম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা না বলে এড়িয়ে যান এবং চা খাওয়ার অফার করেন।
মেসার্স আলহাজ্ব মনসুর আলী ফিলিং স্টেশন এর মালিক আহসান হাবিব এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিব। অন্যায় করলে কোন ছাড় নেই।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments