বগুড়া প্রতিনিধিঃ
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নেপালতলী ইউনিয়নে অবস্থিত ‘বুরুজ আদর্শ গ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’-এর অফিস কক্ষে এক ভয়াবহ ও রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভস্মীভূত হয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত ও ধরণ দেখে স্থানীয়রা একে পরিকল্পিত ‘নাশকতা’ বলে দাবি করছেন।
ঘটনার বিবরণ ও রহস্য স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনটি কেবল বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের ভেতরেই সীমাবদ্ধ ছিল। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এটি কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়।
পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ এলাকাবাসীর অভিযোগ, অফিস কক্ষের ভেতরে নির্দিষ্ট এক জায়গায় কাগজপত্র স্তূপ করে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। দরজা-জানালা বন্ধ থাকা অবস্থায় কক্ষের ভেতরে এভাবে আগুন লাগার বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক। তাদের ধারণা, বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোনো বিরোধ বা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপনের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
নাইট গার্ডের ভূমিকা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন, ঘটনার সময় বিদ্যালয়ে দায়িত্বরত নৈশপ্রহরীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ বলছেন তিনি রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে টেরই পাননি, আবার কারো দাবী সে রাতে স্কুলে থাকেন না। ঘটনার সময় তার অবস্থান ও ভূমিকা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না।
বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও নথিপত্র পুড়ে যাওয়ায় শিক্ষক ও অভিভাবকরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা মনে করছেন, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা না হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও হুমকির মুখে পড়বে। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ বিষয়ে নৈশ প্রহরী রফিকুল ইসলাম জানায় পাশ্বে রুম থেকে আগুন লাগার বিষয়টি জানতে পেরে এসে দেখি রুমের দরজা খোলা। স্থানীয়দের খবর দেই।
প্রধান শিক্ষক জানায় এমদাদুল হক জানায় আগুন লাগার ঘটনা রাতে খবর পেয়ে, উপজেলা মাধ্যমিক অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছি।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার তারিকুল ইসলাম বলেন, ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, তা উদঘাটন করা এখন সময়ের দাবি।



