মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের ক্ষুদিরাম সরকার পাড়ায় নেশার টাকা না দেওয়ায় নিজ মায়ের ওপর ছেলের নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গুরুতর আহত মা শিখা রানী ঘোষ (৪০) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিখা রানী ঘোষের প্রায় ২০ বছর আগে রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নে সুজিত মন্ডলের সঙ্গে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে একমাত্র ছেলে গোবিন্দ ঘোষ (১৯) জন্মগ্রহণ করে। জন্মের কিছুদিন পরই স্বামী তাকে ছেড়ে চলে গেলে শিখা রানী তার ছেলে নিয়ে পিত্রালয়ে বসবাস শুরু করেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গোবিন্দ ঘোষ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে এবং প্রায়ই নেশার টাকার জন্য মায়ের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ করতেন।
ঘটনার আগের দিন বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে গোবিন্দ ঘোষ বাড়িতে আসে। এ সময় নেশার টাকা নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সে রাতের খাবার না খেয়েই মায়ের ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় মায়ের উপর হামলা চালায় গোবিন্দ। ঘরে থাকা দা দিয়ে শিখা রানীকে ঘাড় ও মাথার দিকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে তার বা কান বিচ্ছিন্ন করে গুরুতর জখম করে। পরে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানকার চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
এদিকে ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হামলাকারী গোবিন্দ ঘোষকে ঘরের ভেতর আটক করে রাখে এবং পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার এসআই মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি দা, বিছানার চাদর এবং মাথার চুলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করা হয় বলে থানা পুলিশ জানান।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় শিখা রানীর মা ঊষা রানী ঘোষ বাদী হয়ে গোবিন্দ ঘোষের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। তিনি আরও জানান আজ শুক্রবার দুপুরে আসামিকে রাজবাড়ী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।



