নাজমুল সাদ, হোমনা প্রতিনিধি:
উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত একটি মিথ্যা ও নাটকীয় মামলায় সকল আসামী জামিন পেয়েছেন। জামায়াত নেতা মেহেদী হাসান তার ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানিয়ে উক্ত মামলাকে “হোমনার ইতিহাসে সবচেয়ে হাস্যকর ও নাটকীয় মিথ্যা মামলা” বলে অভিহিত করেছেন।
মেহেদী হাসানের বক্তব্যের সারাংশ:
মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ (আওয়ামী লীগ) নিজেরা তাদের নিজস্ব অফিস ভাংচুর করে এবং অভিনয় করে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে একটি পুরোপুরি সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করেছিল। তিনি বলেন, পুরো হোমনাবাসী এই “সস্তা নাটকে” মজা পেয়েছে এবং হাসছে।
তিনি আরও লেখেন, সত্য এসে গেছে আর মিথ্যা বিলুপ্ত হয়েছে, মিথ্যা তো বিলুপ্ত হওয়ারই। আলহামদুলিল্লাহ বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মেহেদী হাসান তার পোস্টে আওয়ামী লীগের ১৭ বছরের শাসনামলে জামায়াত নেতা-কর্মীদের উপর চরম নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো:
প্রতিটি নির্বাচনে তার বাড়িতে হামলা ও লুটপাট, পরিবারের সদস্যদের উপর আক্রমণ এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানো, বয়োবৃদ্ধ বাবাকে গ্রেফতার ও হয়রানি, এলাকার দুর্বল ও গরিব নারীদের সম্ভ্রমহানি, টাকার বিনিময়ে নিরপরাধ মানুষদের ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি, সর্বশেষ ২২ জুলাই ২০২৪ তারিখে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে প্রশাসনের সমন্বয়ে হামলা (প্রতিপক্ষের প্রত্যক্ষ মদদে)।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর মানবিকতার খাতিরে তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন মনে করেন, এ ধরনের “দুনিয়ার সবচেয়ে খারাপ ও দূষিত রক্তের মানুষদের” ক্ষমা করা বিরাট ভুল ও পাপ হয়েছে।
হাসান স্পষ্টভাবে বলেন, এদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ব্যক্তিও “গাছে উঠে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে, যেন সবার উপর পড়ে” — শ্রদ্ধেয় রেজাউল করিমের এই উক্তি উদ্ধৃত করে।
তিনি আরও জানান, সন্ত্রাসীদের সাথে কোনো আপোষ নেই। তাদেরকে সন্ত্রাসী পথ থেকে ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে। উপরন্তু, ২২ জুলাইয়ের হত্যা চেষ্টার ঘটনায় নতুন মামলা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন।
মেহেদী হাসানের এই পোস্টটি হোমনায় দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ ও প্রতিহিংসার প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জামিন পাওয়ার পর জামায়াত নেতৃত্ব এখন আগের ঘটনাগুলোর পুনরুত্থান ঘটিয়ে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিচ্ছেন।



