শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬
spot_img
Homeশিক্ষাঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন ৯ সেপ্টেম্বর, ভোটারদের নজর ৪০ হাজার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ৩৮তম ডাকসু নির্বাচন ৯ সেপ্টেম্বর, ভোটারদের নজর ৪০ হাজার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এর ৩৮তম নির্বাচন আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এটি ১৯৯০ সালের পর দ্বিতীয় ডাকসু নির্বাচন, যা দেশের রাজনৈতিক এবং শিক্ষার্থী মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

এবারের ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজার, যারা সরাসরি ভোট দিয়ে ২৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় সংসদ নির্বাচিত করবেন। এছাড়া ১৮টি হলে ২৩৪ জন (প্রতিটিতে ১৩ জন) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। ২৮টি কেন্দ্রে মোট ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং বিভিন্ন বাম দলের প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছেন।

ডাকসু’র লক্ষ্য ও কার্যাবলি

ডাকসু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধান দায়িত্বগুলো হলো—

  1. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার সংরক্ষণ এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
  2. কমনরুম তত্ত্বাবধান, ইনডোর গেমস, পত্রিকা ও সাময়িকী সরবরাহ।
  3. বছরে অন্তত একটি জার্নাল প্রকাশ এবং অন্যান্য প্রকাশনার তদারকি।
  4. বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লেকচার আয়োজন।
  5. শিক্ষার্থীদের মধ্যে বক্তৃতা, আবৃত্তি, প্রবন্ধ, ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতা আয়োজন।
  6. আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক ও শিক্ষা সম্মেলনে প্রতিনিধি প্রেরণ।
  7. সামাজিক সেবা কার্যক্রম উৎসাহিত এবং বিদ্যালয় পর্যায়ে আয়োজন।

ডাকসুর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ সংরক্ষণ, বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের শিখন ও সাংস্কৃতিক বিকাশ এবং শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব ও নাগরিক দক্ষতা তৈরি।

নির্বাচনের প্রেক্ষাপট

১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুসারে প্রতি বছর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও স্বাধীন দেশে ৫৩ বছরে মাত্র ৮ বার ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইতিহাসে ডাকসু শিক্ষার্থী আন্দোলন ও জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখযোগ্য—বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ।

ডাকসুর ইতিহাসে প্রথম কেন্দ্রীয় সংসদ গঠিত হয় ১৯২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে। প্রথম সহ-সভাপতি ছিলেন মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন যোগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। পরবর্তী কয়েক দশক জুড়ে ডাকসু এবং হল সংসদের নেতৃত্বে বিভিন্ন শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৬০-৬১ শিক্ষাবর্ষে ডাকসু প্রথম নারী সহ-সভাপতি জাহানারা আখতার নির্বাচিত হন।

নির্বাচনের প্রচার

এবারের নির্বাচনের প্রচারণার শেষ দিন রোববার, ৭ সেপ্টেম্বর। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রার্থীরা শেষ দিনের প্রচারণা চালাতে পারবেন। এর আগে, ছাত্রী হলগুলোতে অনাবাসিক ও আবাসিক প্রার্থীরা ২৬ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন।

এই নির্বাচনে সাধারণ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর আগ্রহও অনেক, যেন এটি আবারও জাতীয় নির্বাচনের মতো আলোচনায় আসে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments