মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬
spot_img
Homeশিক্ষাকিছু গণমাধ্যমে ভুলভাবে প্রচার, পদত্যাগ করেননি ঢাবি উপাচার্য

কিছু গণমাধ্যমে ভুলভাবে প্রচার, পদত্যাগ করেননি ঢাবি উপাচার্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, হঠাৎ করে কোনো শূন্যতা বা প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করার পক্ষে তিনি নন। সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল চাইলে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে তিনি রাজি আছেন। ১০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর তিনটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। এ দিকে কিছু গণমাধ্যমে তার বক্তব্য ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে তিনি উপাচার্যের পদ থেকে পদত্যাগ করছেন, যা তার বক্তব্যের সঙ্গে মেলেনি। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান বলেন, নির্বাচনের পর আমি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে চাই, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো শূন্যতা তৈরি হলে সরকার চাইলে আরও কিছু সময় দায়িত্ব পালন করব। তিনি আরও বলেন, একটি আপদকালীন সময়ে ছাত্রদের অনুরোধে দায়িত্ব নিয়েছিলাম এবং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নত করা সম্ভব হয়েছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং সেই নাজুক পরিস্থিতি আর নেই। তাই উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে মূল পদে, উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের গ্রেড-১ অধ্যাপকের পদে ফিরতে চাই। এজন্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য বরাবর চিঠি লিখবেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের আগস্টে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন বিশেষ ও আপৎকালীন পরিস্থিতিতে, যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল এবং প্রশাসনিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। প্রথম লক্ষ্য ছিল একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীলতায় ফেরানো। প্রায় দেড় বছর পর বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, এখনও সীমাবদ্ধতা আছে, তবে সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। উপাচার্য জানান, তিনি কখনোই দায়িত্বটিকে নিয়মিত চাকরি হিসেবে দেখেননি, এটি ছিল একটি আমানত। ছাত্রদের অনুরোধ ও ভালোবাসায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। নিজের সরে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একটি নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব নিলে তারা প্রশাসন নিজেদের মতো সাজাতে পারবে, আমি চাই তারা দায়িত্ব নিক এবং আমরা পূর্ণ সহযোগিতা করব। দায়িত্বকালে অর্জনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে, হল সংসদগুলো কার্যকর হয়েছে, শিক্ষার্থীদের অধিকার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি হয়েছে, টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রায় ২০০ ধাপ উন্নতি, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৬০ শতাংশ বৃদ্ধি, গবেষণা ও প্রকাশনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকার বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে, যা আবাসন, একাডেমিক ভবন ও গবেষণা অবকাঠামোর ঘাটতি অনেকটাই কমাবে। উপাচার্য বলেন, সরকারকে দ্রুত ডেপুটেশন প্রত্যাহার করে মূল শিক্ষকতার দায়িত্বে ফিরতে অনুমতি দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ করবেন। “অনেকদিন কঠিন পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন,” বলেন তিনি। দুপুর ১২টার পর জরুরি সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি গণমাধ্যমে জানানো হলে পদত্যাগের গুঞ্জন উঠলেও সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments