হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনার বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনা ব্যর্থ হলে সরকার বিকল্প আন্তর্জাতিক অপারেটর খুঁজতে প্রস্তুত।
বেবিচকের সদর দপ্তরে রোববার দুপুর ৩টায় শুরু হওয়া আলোচনায় ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পক্ষ পরামর্শক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখন আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছি। যদি তারা রাজি না হয়, সরকার অন্য অপারেটর খুঁজবে।”
টার্মিনালটি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কোঅপারেশন এজেন্সি (জাইকা) অর্থায়নে নির্মিত এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ‘সফট ওপেনিং’ হয়েছে। এটি বিমানবন্দরের যাত্রী ধারণক্ষমতা ৮০ লাখ থেকে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত করবে এবং কার্গো পরিচালনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটাবে।
জাপানি কনসোর্টিয়ামে সুমিতোমো করপোরেশন, জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন, সোজিতজ কর্পোরেশন এবং জাপানি সরকারি সংস্থা অন্তর্ভুক্ত। তারা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলের আওতায় তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেতে চায়। তবে, রাজস্ব ভাগাভাগি নিয়ে সরকারি ও কনসোর্টিয়ামের মধ্যে কিছু দ্বন্দ্ব রয়েছে।
ট্যার্মিনালটি ঢাকা মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও হজ ক্যাম্পের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এখানে থাকবে ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং ৩টি ভিআইপি ইমিগ্রেশন ডেস্ক।
বিমান বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অপারেটর চূড়ান্ত করতে দেরি হলে খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে এবং যন্ত্রপাতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় প্রকল্পের কৌশলগত সুবিধা ক্ষুণ্ণ হতে পারে।



