জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রার্থী মনোনয়নের ঘোষণা এখনো দেয়নি বিএনপি। তবে দলটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মনোনয়নের সবুজসংকেত পেয়ে গেছেন বহু মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতা। এই সংকেত পাওয়ার পরপরই নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারের কাজে নেমে পড়েছেন তাঁরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক ধাপে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শেষে চলতি মাসেই এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে পারে বিএনপি।
দলীয় সূত্রের খবর, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি অন্তত ৭০ ভাগ আসনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ফোনে যোগাযোগ করে বেশ কিছু আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীকে জনসংযোগ শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাকেই দলের নীতিনির্ধারকেরা ‘সবুজসংকেত’ বলছেন। এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাই অনেকটাই ঠিক করেছেন। অনেকেই বলছেন যে, তাঁরা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছ থেকে প্রার্থী হওয়ার নিশ্চয়তা পেয়েছেন এবং নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
দলটির সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, স্থায়ী কমিটির সদস্যরা প্রার্থী হচ্ছেন—এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তবে তাঁদের সবার জন্য একটি আসনই বরাদ্দ থাকবে। অন্যদিকে দলের মধ্যম সারির নেতাদের মধ্যে সবদিক বিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে অনেককে ফোনে আশ্বস্ত করেছেন তারেক রহমান। জানা গেছে, মেহেরপুর-১ আসনে মাসুদ অরুণ, বগুড়া-১ আসনে কাজী রফিকুল ইসলাম, চাঁদপুর-১ আসনে আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং শরীয়তপুর-৩ আসনে মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর মনোনয়ন প্রায় নিশ্চিত। এর মধ্যে কাজী রফিকুল ইসলাম তারেক রহমানের ফোনে মনোনয়নের নিশ্চয়তা পেয়ে ভোটের মাঠে কাজ শুরু করে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তাঁকে বিজয়ী হওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে বলেছেন এবং তাঁর নির্দেশমতো তিনি এলাকায় প্রচারের কাজ শুরু করেছেন।
এদিকে, নির্বাচন সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি শরিক দল ও সমমনা সংগঠনের সঙ্গেও আসন সমঝোতার আলোচনা অব্যাহত রেখেছে বিএনপি। এই আলোচনার মধ্যে শরিক দলগুলোর অনেক নেতাও তারেক রহমানের কাছ থেকে সুখবর পেয়েছেন বলে দাবি করে ভোটের মাঠে প্রচারে নেমেছেন। শরিক দলগুলোর এমন নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ (ঢাকা-১৭), জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ (ঢাকা-১৩), গণফোরামের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী (ঢাকা-৬), নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-৪) এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদের (কুমিল্লা-৭) নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের সংগঠন মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি ঢাকা-১৪ আসনে মনোনয়নের ব্যাপারে তারেক রহমানের কাছ থেকে সুখবর পেয়েছেন বলে জানা গেছে, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।



