বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খানের ছেলে ও যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা আরাফাত বিল্লাহ বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে ভোট চাওয়ায় তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় দলীয় অঙ্গনে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে এবং প্রার্থী কামরুল ইসলাম খান চাপে পড়েছেন। গত শুক্রবার গৌরনদীতে বিএনপির প্রার্থী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জহির উদ্দীন স্বপনের পক্ষে আয়োজিত জনসভায় অংশ নিয়ে আরাফাত বিল্লাহ প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট চান। এ ঘটনার পর থেকেই জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, ছয় মাস আগে বরিশাল-১ আসনে মাওলানা কামরুল ইসলাম খানকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও তিনি এতদিন মাঠে থেকে প্রচার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু তাঁর ছেলের বিএনপিপন্থী অবস্থান এবং প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার ঘটনায় তিনি এখন দলীয় সমালোচনার মুখে পড়েছেন। গৌরনদী উপজেলা জামায়াতের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের প্রার্থীর ছেলে আগে তেমন আলোচনায় ছিলেন না। বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পর সে জহির উদ্দীন স্বপনের পক্ষে ভোট চেয়েছে, যা দলীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি নীতি-নির্ধারকদের গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা কামরুল ইসলাম খান বলেন, আমার ছেলে অনেক আগে থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সে তার নিজ রাজনৈতিক অবস্থান থেকে যা করেছে, তার দায় আমি নিচ্ছি না। তবে এর কারণে আমাকে দলীয় ফোরামে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।
জামায়াতের গৌরনদী উপজেলা আমীর মোহাম্মদ আলামিন বলেন, এই আসনে জামায়াতের অবস্থান অনেকটা ভালো ছিল। তবে প্রার্থীর ছেলের আচরণে আমরা বিব্রত। বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে এবং প্রয়োজনে প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে।
বরিশাল-১ আসনে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের প্রার্থীর ছেলে যদি বাবার বিপক্ষে গিয়ে ধানের শীষে ভোট চান, তাহলে তার প্রার্থী থাকা অর্থহীন। শুক্রবারের এই ঘটনাটি নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। এ বিষয়ে আমাদের নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
দলীয় সূত্র জানায়, ঘটনাটি ইতোমধ্যে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজরে এসেছে। শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিষয়টি দলীয় ফোরামে আলোচনার জন্য তোলা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ে চিন্তাভাবনা চলছে।



