শহীদ শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফেরাত কামনা ও হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাবি শাখা। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়।
শাহবাগ মোড়ে পৌঁছে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা চারপাশের সড়ক অবরোধ করে বসে পড়েন। এতে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী, কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে শুক্রবার বাদ জুমা দেশব্যাপী দোয়া-মোনাজাত ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই পোস্টে শহীদ ওসমান হাদির আত্মার মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি তাঁর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ছোড়া গুলিতে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলাকারী হিসেবে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতাকে শনাক্ত করা হয়েছে, যিনি ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে আলোচনা রয়েছে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওসমান হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারের উদ্যোগে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর পাঠানো হয়। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ঢাকা-৮ আসনে সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ওসমান হাদি। তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন সংগঠন এটিকে পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।



