বুধবার, ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সংঘটিত হয়েছিল অধিকাংশ গুম: কমিশনের প্রতিবেদন

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই সংঘটিত হয়েছিল অধিকাংশ গুম: কমিশনের প্রতিবেদন

বলপূর্বক গুমের পেছনে মূলত রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল বলে জানিয়েছে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি। রোববার কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়ার সময় কমিশন সদস্যরা জানান, প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণে এটি স্পষ্টভাবে পলিটিক্যালি মোটিভেটেড ক্রাইম হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। কমিশনের তথ্যমতে, মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে গুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত। কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস জানান, এখনো অনেক অভিযোগ আসছে এবং গুমের প্রকৃত সংখ্যা চার থেকে ছয় হাজার হতে পারে। অনেক ভুক্তভোগী বা তাদের স্বজন এখনো কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, কেউ কেউ দেশ ছেড়ে গেছেন বা অনরেকর্ড কথা বলতে রাজি হননি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, জীবিত ফিরে আসা গুমের শিকারদের মধ্যে ৭৫ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এখনো নিখোঁজদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মী। কমিশনের অনুসন্ধানে হাই-প্রোফাইল গুমের ঘটনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। উল্লেখযোগ্য ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী আলম, জামায়াত নেতা সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী, ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামান। কমিশন সদস্যরা জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নিজে একাধিক গুমের ঘটনায় নির্দেশদাতা ছিলেন এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের ভারতে রেন্ডিশনের তথ্যও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশনার ইঙ্গিত দেয়। প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনূস কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক কাজ এবং এসব ঘটনা পৈশাচিকতার নৃশংস দলিল। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মুখোশ পরে কীভাবে মানুষের ওপর নির্মমতা চালানো হয়েছে, এই প্রতিবেদন তার প্রামাণ্য দলিল। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের নৃশংসতা আর না ঘটে, সে জন্য প্রতিকারের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টা রিপোর্টগুলো সহজ ভাষায় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সুপারিশমালা ও ভবিষ্যৎ করণীয় উপস্থাপন এবং আয়নাঘরসহ বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের স্থানগুলো ম্যাপিংয়ের নির্দেশ দেন। কমিশন জানায়, তদন্তে বরিশালের বলেশ্বর নদীতে সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ড ও লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে এবং বুড়িগঙ্গা নদী ও মুন্সিগঞ্জ এলাকাতেও লাশ গুমের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট সদস্য ও উপদেষ্টারা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments