মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিল করলে উভয় ক্ষেত্রেই সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির আপিল করার সুযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিল দায়ের কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সিইসি বলেন, ‘আমরা ইনসাফে বিশ্বাসী। আমরা ইনসাফ করব। শুনানি শেষে আপনারা দেখবেন, আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী ন্যায়বিচার করা হয়েছে। আইন সবার জন্য সমান এবং সবাই তা মানতে বাধ্য।’ তিনি আরও বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, অতীতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন সহিংসতা ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটত; কিন্তু এবার অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে এবং কোথাও কোনো সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি, যা একটি ইতিবাচক দিক। নির্বাচন কমিশন এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আপিল করতে আসছেন, যা নির্বাচনের প্রতি জনগণের আগ্রহের প্রমাণ এবং বিষয়টি কমিশন ইতিবাচকভাবেই দেখছে। মনোনয়নপত্র গ্রহণ ও বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনের মতো নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের শুরু হয়েছে। ইসির কর্মকর্তারা জানান, বুধবার নির্বাচন কমিশনে ১৩১টি আপিল দায়ের হয় এবং এতে গত তিন দিনে মোট আপিলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫টি। কর্মকর্তারা আরও জানান, বুধবার খুলনা অঞ্চল থেকে ১১টি, রাজশাহী অঞ্চল থেকে ১৫টি, রংপুর অঞ্চলে ৯টি, চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১০টি, কুমিল্লা অঞ্চলে ১৯টি, ঢাকা অঞ্চলে ৩১টি, ময়মনসিংহ অঞ্চলে ১৬টি, বরিশাল অঞ্চলে ৯টি এবং ফরিদপুর অঞ্চলের জেলাগুলো থেকে ৭টি আপিল দায়ের করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে ১২২টি আপিল দায়ের করা হয় এবং সোমবার মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ৪১টি ও মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে একটি আপিল দায়ের হয়। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে, যার মধ্যে ১ হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ৭২৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। ইসির নোটিশ অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার আদেশে সংক্ষুব্ধ কোনো প্রার্থী, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি বিকাল ৫টার মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবে। আপিলের ক্ষেত্রে মূল কাগজের এক সেট ও ছয় সেট ফটোকপি মেমোরেন্ডাম আকারে জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনে দায়ের করা আপিলগুলোর শুনানি ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে নির্বাচন ভবনের বেজমেন্ট-২-এর অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং পূর্ণাঙ্গ কমিশন এসব শুনানি গ্রহণ করবে। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ১০ জানুয়ারি ১ থেকে ৭০ নম্বর আপিল, ১১ জানুয়ারি ৭১ থেকে ১৪০, ১২ জানুয়ারি ১৪১ থেকে ২১০, ১৩ জানুয়ারি ২১১ থেকে ২৮০, ১৪ জানুয়ারি ২৮১ থেকে ৩৫০, ১৫ জানুয়ারি ৩৫১ থেকে ৪২০, ১৬ জানুয়ারি ৪২১ থেকে ৪৯০, ১৭ জানুয়ারি ৪৯১ থেকে ৫৬০ এবং ১৮ জানুয়ারি ৫৬১ নম্বর থেকে অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। শুনানি শেষে আপিলের ফলাফল মনিটরে প্রদর্শন করা হবে এবং একই সঙ্গে রায়ের পিডিএফ কপি ও আপিলের সিদ্ধান্ত রিটার্নিং অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হবে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও তা প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নির্বাচন ভবনের অভ্যর্থনা ডেস্ক থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে রায়ের অনুলিপি বিতরণ করা হবে।



