সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে প্রশ্নফাঁস, অনিয়ম ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে দলটি। সোমবার এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ও শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্তর পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে এনসিপি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর আগেও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিস সহকারী নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটেছিল। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় একের পর এক অনিয়ম ও জালিয়াতির ঘটনায় দলটি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান শুরু হয়েছিল চাকরি ব্যবস্থায় বৈষম্য, অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে চাকরি পরীক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে। ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের পর অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হলেও জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী চাকরি পরীক্ষার অনিয়ম দূর করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করে এনসিপি। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর গুণগত পরিবর্তনের বদলে টেন্ডার বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্য ও বদলি বাণিজ্যে অধিক মনোযোগ দিয়েছে, যা জাতির জন্য লজ্জাজনক এবং শহীদদের রক্তের প্রতি চরম অবমাননা। এ প্রেক্ষিতে এনসিপি দাবি জানায়, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ঘিরে ওঠা সব অভিযোগের নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত করতে হবে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ করা যাবে না। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের ন্যূনতম সত্যতা পাওয়া গেলে পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নিতে হবে এবং প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় এনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্ন প্রণয়নের দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও যদি মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তরের অবহেলা দেখা যায়, তবে চাকরি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে শামিল হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেয় দলটি।



