নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা | ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত হয়েছে ‘১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’। আজ বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই জোটের রূপরেখা ও আসন বন্টনের বিস্তারিত ঘোষণা করা হয়। জোটের মূল শরিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৭৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
বিভাগভিত্তিক জামায়াতের প্রধান আসনসমূহের বিস্তারিত তালিকা:
আপনার দেওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, জামায়াত যেসব গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রার্থী দিচ্ছে তার একটি বিস্তারিত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
১. রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ (উত্তরবঙ্গ):
উত্তরবঙ্গে জোটের পক্ষ থেকে জামায়াতকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- রংপুর অঞ্চল: রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া), রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ), রংপুর-৩ (সদর), রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ)। এ ছাড়াও নীলফামারী, লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের অধিকাংশ আসন জামায়াতের জন্য বরাদ্দ।
- বগুড়া অঞ্চল: বগুড়ার ৭টি আসনের সবকটিতেই (বগুড়া ১-৭) জামায়াত প্রার্থী দিচ্ছে, যার মধ্যে সদর ও শিবগঞ্জ উল্লেখযোগ্য।
- রাজশাহী অঞ্চল: রাজশাহী-২ (সিটি কর্পোরেশন) সহ জেলার ৬টি আসনেই সমঝোতা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) ও পাবনা-৫ (সদর) জামায়াতের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
২. খুলনা ও বরিশাল বিভাগ (দক্ষিণবঙ্গ):
- খুলনা অঞ্চল: খুলনা-২ (সিটি কর্পোরেশন) ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া)। সাতক্ষীরার ৪টি আসনেই (সাতক্ষীরা ১-৪) জামায়াত লড়বে। এছাড়া যশোর ও ঝিনাইদহের প্রায় সব আসনে সমঝোতা হয়েছে।
- বরিশাল অঞ্চল: পিরোজপুর-১ ও ২ (সদর ও কাউখালী), পটুয়াখালী-২ (বাউফল) এবং বরগুনা-২।
৩. ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগ:
- ঢাকা মহানগর: ঢাকা-৬ (কোতোয়ালি), ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি-কলাবাগান), ঢাকা-১২ (তেজগাঁও), ঢাকা-১৫ (মিরপুর), ঢাকা-১৬ (পল্লবী) এবং ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী)।
- ঢাকা জেলা ও পার্শ্ববর্তী: ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ), নারায়ণগঞ্জ-১ ও ২ (রূপগঞ্জ-আড়াইহাজার), গাজীপুর-৪ এবং টাঙ্গাইলের ৬টি আসন।
৪. সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগ:
- সিলেট অঞ্চল: সিলেট-১ (সদর ও সিটি কর্পোরেশন), সিলেট-৩, ৪ ও ৬। সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের গুরুত্বপূর্ণ আসন।
- চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা: কুমিল্লা-৬ (সদর ও সিটি) এবং কুমিল্লা-১, ৩, ৫, ৮, ৯, ১০, ১১। ফেনী-১ ও ৩ এবং নোয়াখালী-৩।
জামায়াত বাদে অন্য দলগুলো মোট ৭৪টি আসনে (প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী) লড়বে:
- এনসিপি (৩০টি): নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বাধীন এই দলটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে।
- বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (২০টি): মাওলানা মামুনুল হকের দল ২০টি আসনে লড়বে।
- খেলাফত মজলিস (১০টি): ড. আহমদ আব্দুল কাদেরের দল।
- এলডিপি (৭টি): কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের দল।
- এবি পার্টি (৩টি): মজিবুর রহমান মঞ্জুর দল।
- বিডিপি ও নেজামে ইসলাম: যথাক্রমে ২টি করে আসন।
ইসলামী আন্দোলন ও ঝুলে থাকা আসন:
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জন্য ৪০-৪৫টি আসন রাখা হয়েছে। তারা জোটের এই বিশাল সমঝোতায় যোগ দিলে জোটের প্রার্থী সংখ্যা প্রায় ৩০০-র কাছাকাছি পৌঁছাবে। ইসলামী আন্দোলন আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাদের অবস্থান জানাবে।
জোটের অঙ্গীকার:
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতারা জানান, এই ঐক্য কেবল নির্বাচনী নয়, বরং ‘জুলাই স্পিরিট’ রক্ষা এবং দেশে একটি টেকসই রাজনৈতিক সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। তারা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।



