নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, “১৫ বছর হাল চাষ করলাম, বীজ দিলাম, ধান লাগালাম। ফসল কাটার সময় যদি মরুভূমি আসে তবে কেমন লাগে? ঠিক আছে, আমার হাঁস আমারই চাষ করা ধান খাবে।” শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের আমিনপাড়া এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে এই আক্ষেপ প্রকাশ করেন। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ‘হাঁস’ প্রতীক নিয়ে লড়ছেন তিনি। রুমিন ফারহানা অভিযোগের সুরে বলেন, দীর্ঘ সময় দলের জন্য লড়াই করলেও শেষ সময়ে এসে আসনটি জোটের শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবের প্রতীক ‘খেঁজুর গাছ’-কে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, মরুভূমির গাছের কাছে তিনি নিজের পরিশ্রমের ফসল ছেড়ে দেবেন না।
পথসভায় রুমিন ফারহানা তার সমর্থকদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, “আপনারা ভোটকেন্দ্র পাহারায় থাকবেন। একটা জাল ভোট যেন কেউ দিতে না পারে। আমার একটা হাঁসও যেন কোনো শিয়াল চুরি করতে না পারে। গুনে গুনে হাঁস আপনারা খোঁয়াড়ে তুলবেন।” তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে ‘হাঁস’ কোনো দলের প্রতীক নয়, এটি সাধারণ আমজনতার প্রতীক। এটি সাহসের এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর মার্কা। ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, “মা-বোনেরা জানে হাঁস সমৃদ্ধির প্রতীক। আপনারা একটা দিন আমার সাথে কষ্ট করেন, আমি আগামী পাঁচটা বছর আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকব এবং এই এলাকাকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে গড়ব।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক উন্নয়ন ও গ্যাস সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই জেলায় বহু নেতা এসেছেন এবং গেছেন, কিন্তু তিনি প্রথম সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস আগে স্থানীয় মানুষের পাওয়ার দাবি তুলেছিলেন। তিনি নিজেকে এলাকার সন্তান দাবি করে বলেন, অন্য কোনো বড় নেতা বা হাই কমান্ডের কাছের লোক এই সাহস দেখাননি। উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানাসহ মোট নয়জন প্রার্থী লড়াই করছেন। বিএনপির এই প্রভাবশালী নেত্রী স্বতন্ত্রভাবে মাঠে থাকায় সরাইল ও আশুগঞ্জ এলাকায় ভোটের সমীকরণ এখন বেশ জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।



