নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় বিভিন্ন থানা ও নিরাপত্তা বাহিনীর দফতর থেকে লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ দীর্ঘ দেড় বছরেও পুরোপুরি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ১ হাজার ২০০-র বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় দুই লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে এসব অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
কত অস্ত্র লুট হলো আর কত উদ্ধার?
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের দেওয়া সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের সময় লুট হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের প্রকৃত সংখ্যা ৩ হাজার ৬১৯টি। এর মধ্যে চায়নিজ রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, পিস্তল ও শটগান রয়েছে। গত দেড় বছরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ২ হাজার ২৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, যা মোট লুটের প্রায় ৬২ শতাংশ। তবে এখনো ১ হাজার ৩৬০টি অস্ত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাগালের বাইরে। অন্যদিকে, ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪১৮ রাউন্ড লুটের গোলাবারুদের মধ্যে মাত্র ৫২ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুরস্কার ঘোষণা ও অভিযান
লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে অন্তর্বর্তী সরকার ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে। এলএমজি-র সন্ধান দিলে ৫ লাখ, এসএমজি-র জন্য দেড় লাখ এবং প্রতিটি গুলির সন্ধানের জন্য ৫০০ টাকা পুরস্কার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু গত ১৭ মাসে দফায় দফায় বিশেষ অভিযান চালিয়েও আশানুরূপ সফলতা মেলেনি।
অপরাধীদের হাতে লুটের অস্ত্র
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো, এসব অস্ত্র হাতবদল হয়ে পেশাদার অপরাধী ও উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কাছে চলে গেছে। গত দেড় বছরে খুলনা, চট্টগ্রাম ও মুন্সিগঞ্জে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও হত্যাকাণ্ডে পুলিশের লুণ্ঠিত পিস্তল ও শটগান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে মুন্সিগঞ্জে এক নারীকে হত্যার ঘটনায় ওয়ারী থানা থেকে লুট হওয়া পিস্তল ব্যবহারের তথ্য নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
নির্বাচন ও ভোটারদের উদ্বেগ
নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, পুলিশের বর্তমান ‘দুর্বল’ অবস্থানের কারণে ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. আব্দুল আলীম জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে ভোটারদের আশ্বস্ত করতে না পারলে কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তাদের কর্মী-সমর্থকদের মাধ্যমে কোনো সহিংসতা বা এই অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি আছে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সরকারের আশ্বাস
যদিও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সম্প্রতি রাজশাহীর সারদায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেছেন, “থানা থেকে লুট হওয়া যে অস্ত্রগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি, সেগুলো নির্বাচনের সময় কেউ ব্যবহার করতে পারবে না। এ বিষয়ে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করছে।” ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবিসহ প্রায় ৯ লাখ সদস্য মাঠে থাকবেন বলে জানিয়েছে সরকার।



