রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশরাজবাড়ীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বেড়েছে খোলা তেলের দাম

রাজবাড়ীতে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট, বেড়েছে খোলা তেলের দাম

মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীতে ভোজ্য তেলের সংকট তৈরি হয়েছে। গত প্রায় এক মা‌সের বেশি এ সংকট তৈরি হয়েছে। বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম। এতে সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন দুর্ভোগে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলাররা তাদেরকে তেল সরবরাহ ঠিকমত করছেনা। আর ডিলাররা বলছেন, কোম্পানী তাদের এসও নিচ্ছে ন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। যা কদিন আগেও ছিল ১৬৯ টাকা লিটার। বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। তবে সংকট রয়েছে। অনেক ক্রেতা বোতলজাত তেল না পেয়ে খোলা তেল কিনছেন।
রাজবাড়ী শহরের বাসিন্দা শফিকুল হক জানান, তিনি সপ্তাহে একদিন বাজার করেন। তেল কখনও পাঁচ লিটার, কখনও দুই লিটার কেনেন। শুক্রবার বাজারে গিয়ে বোতলজাত তেল কিনতে পারেননি। শেষে খোলা তেল কিনেছেন।
রাজবাড়ী বাজারের পালপট্টি এলাকার মুদি ব্যবসায়ী ্আনন্দ দত্ত জানান, গত প্রায় এক মাস ধরে তেলের সংকট চলছে। কোনো কোম্পানীরই পাঁচ লিটারের ক্যান পাওয়া যাচ্ছে না বললেই চলে। চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ দেয় ডিলাররা। এক লিটার দুই লিটার ক্যান নিতে হলে তার সাথে অচল সব পণ্য গছিয়ে দেওয়া হয়। যেটা তাদের চলে না। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাধা কাস্টমার যারা তাদের কাছে শুধু তেল বিক্রি করছেন। অন্যরা চাইলে নিষেধ করে দিচ্ছেন। তবে খোলা তেলের কোনো সংকট নেই। দাম একটু বেশি হলেও তা পাচ্ছেন।
চাল বাজারের মুদি ব্যবসায়ী বদন সাহা জানান, তিনি পাঁচ লিটারের সোয়াবিন তেল আনতে গিয়েছিলেন। যা চেয়েছেন ডিলার তার তিন ভাগের এক ভাগ দিয়েছে। তবে, তার সাথে পোলাও চাল, সরিষার তেল এসব দিয়ে দিয়েছে। না হলে তেল দেবেনা। গত বেশ কিছু দিন যাবৎ এ সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। তেল দিতে না পারায় কাস্টমার ফেরত চলে যাচ্ছে। তাদের বেচাকেনা কমে গেছে।
রাজবাড়ী শহরের তীর সয়াবিন তেলের পরিবেশক আলতাফ হোসেন জানান, তার এলাকায় প্রতি মাসে বোতলজাত সোয়াবিন তেলের চাহিদা প্রায় এক কোটি টাকার। অথচ কোম্পানি সরবরাহ দিচ্ছে মাত্র ১৫ লক্ষ টাকার, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। ফলে বাজারে বোতলজাত তেলের তীব্র ঘাটতি দেখা দিচ্ছে । তিনি আরো জানান, বর্তমান বাজারে বোতলজাত সোয়াবিন তেলের চেয়ে খোলা সোয়াবিন তেলের দাম প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি। এই মূল্য পার্থক্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোম্পানিগুলো বোতলজাত তেলের পরিবর্তে খোলা তেল বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কারণ খোলা তেলে মুনাফা অনেক বেশি।
রূপচাঁদা সয়াবিন তেলের ডিলার মেসার্স সুরেন্দ্র নাথ সাহার মালিক সুনন্দন সাহা জানান, কোম্পানী এসও নিচ্ছে না অনেক দিন ধরে। এখানে তাদের করণীয় কী। চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ তেলও পাচ্ছেন না। আবার পেলেও তেলের সাথে অন্যান্য পণ্য দিয়ে দিচ্ছে। তারাও বাধ্য হচ্ছেন খুচরা বিক্রেতাদের সেসব দিতে। এই সংকট কাটিয়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরচালক (অ.দা) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, রাজবাড়ী জেলায় তিনি অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি মূলত যে জেলায় দায়িত্বে রয়েছেন সেখানে ভোজ্য তেলের সংকট রয়েছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা ডিলারদের কাছে তেল আনতে গেলে তেলের সাথে অন্যান্য পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে এমন অভিযোগ শুনেছেন। রাজবাড়ীর বিষয়টি তিনি প্রথম শুনলেন। রাজবাড়ী গিয়ে বিষয়টি নিয়ে তিনি ডিলার ব্যবসায়ী দসবার সাথে কথা বলবেন। খতিয়ে দেখবেন ব্যবসায়ীরা লাভবান হওয়ার জন্য কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে কীনা। তেমন হলে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments