মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি থানার ভেতরে ডিউটি অফিসারের কক্ষে একজন নারী ব্যাংক কর্মকর্তা ও তার ছেলেকে মারধর এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। গত ( ৪ এপ্রিল) শনিবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। রোববার (৫ এপ্রিল) বালিয়াকান্দি থানায় মামলাটি হয়।
অগ্রণী ব্যাংক বালিয়াকান্দি এসএমই শাখার প্রিন্সিপাল অফিসার ও ব্যবস্থাপক আকতারী পারভীন হ্যাপী (৪৭) বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ( ৪ এপ্রিল) শনিবার দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে তার ছেলে রাআতুল (১৯) ও বন্ধু মাবরুক আল মাইয়ান (১৭) বালিয়াকান্দি বাজারের ভাই ভাই পাম্পে পেট্রোল নিতে যায়। পাম্পে ভিড় থাকায় পাশের মামুনের মুদি দোকানের সামনে মোটরসাইকেল রেখে বোতলে পেট্রোল আনতে গেলে পাম্প কর্তৃপক্ষ বোতলে পেট্রোল দিতে অস্বীকার করে। ফিরে এসে তারা মোটরসাইকেলটি খুঁজে পায় না।
পরে জানা যায়, স্থানীয় শিমুল বালার গ্যারেজের এক কর্মচারী ভুলবশত মোটরসাইকেলটি তাদের গ্যারেজে নিয়ে রাখে। বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে সেখান থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।
মোটরসাইকেল পাওয়ার পর থানায় আগে করা অভিযোগ প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করতে বাদী, তার ছেলে, ছেলের বন্ধু ও তার বাবা শাহজাহান আলী সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসেন। এ সময় বিবাদীর পিতা আক্তারুজ্জামানও ঘটনা সম্পর্কে জানাতে থানায় আসেন। সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে বিবাদী জিসান ডিউটি অফিসারের কক্ষে ঢুকে এলোপাতাড়িভাবে রাআতুলকে কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। ছেলেকে বাঁচাতে গেলে বিবাদী ব্যাংক কর্মকর্তা আকতারী পারভীনকেও গলা টিপে ধরে এবং তলপেটে লাথি মারে। এ সময় তার পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানিও করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মা-ছেলের চিৎকার শুনে ডিউটি অফিসারসহ থানার পুলিশ ছুটে এসে মারধর থামায়। এরপর বিবাদী জিসান প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যায়।
আহত মা ও ছেলে বালিয়াকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে থানায় ফিরে এজাহার দায়ের করেন বাদী।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি আব্দুর রব তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, জিসানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।



