রকি হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, কিশোরগঞ্জ:
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কিশোরগঞ্জে লিফলেট বিতরণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। একই সঙ্গে ‘ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন রুখে দেওয়ার’ আহ্বান জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বাদ আসর কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া শেষ মোড় মসজিদের সামনে থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে নগুয়া এলাকার বিভিন্ন স্থান ও বাসস্ট্যান্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন ১১ দলীয় ঐক্যের জেলা শাখার নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মো. রমজান আলী, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আজিজুল হক, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা নাজমুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি শামসুল আলম সেলিম, অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুল্লাহ, রাজনৈতিক বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক আজিজুল হক কাজল, এনসিপি জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ ইকরাম হোসেন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির ক্বারী মাওলানা নজরুল ইসলাম, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি আ. ন. ম. নঈমসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে সরকারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তারা অভিযোগ করেন, গণভোটের রায় অমান্য করে সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের নির্বাচনে জনগণ একই তফসিলের অধীনে জাতীয় সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষে রায় দেয়। সেই রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১১ দলের ৭৭ জন প্রতিনিধি শপথ নিলেও বিএনপি সংস্কার পরিষদের শপথ বর্জন করে।
পরবর্তীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বারবার সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানানো হলেও সরকার তা উপেক্ষা করে। ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে সংসদে সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত একটি সংসদীয় কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যা নিয়ে তারা আপত্তি জানান।
বক্তারা বলেন, সংবিধানের কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া কেবল সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ সম্ভব নয়। তারা গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রতিবাদে সংসদ ও রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।



