নিজেস্ব প্রতিনিধিঃ
ঢাকার যুগ্ম দায়রা জজ ৭ম আদালত ও বিশেষ ট্রাইবুনালে দায়ের হওয়া কোম্পানির টাকা আত্মসাৎ করা একটি চেকের মামলার আসামি জহিরুল ইসলামকে দীর্ঘদিনেও গ্রেপ্তার না করায় পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতি ও গড়িমসির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, দায়রা মামলা নং- ২৯৫৪/২৪ এবং সিআর নং- ৫৭৪/২৪-এ অভিযুক্ত মোঃ জহিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানাধীন কচুবাড়ী দেবত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত ফয়জুর রহমান এর ছেলে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি এলাকায় প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাকে স্পর্শ করছে না। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিজেকে কথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরছেন এবং সেই কারণেই তাকে গ্রেপ্তারে অনীহা দেখানো হচ্ছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আইনের শাসন কি সবার জন্য সমান, নাকি প্রভাবশালীদের জন্য ভিন্ন?
সচেতন মহলের দাবি, একটি আদালতের মামলার আসামি দীর্ঘদিন ধরেই পলাতক থাকা সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা বলছেন, এটি শুধু পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা নয় বরং আইনের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞার শামিল। দ্রুত গ্রেপ্তার না হলে জনগণের আইন ও বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, আসামিকে গ্রেপ্তার না করার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে—
প্রভাব ও পরিচয়ের অপব্যবহার: অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়ে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন।
পুলিশের অনীহা বা গাফিলতি: দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সক্রিয় উদ্যোগের অভাব।
সম্ভাব্য অদৃশ্য চাপ: প্রভাবশালী মহলের চাপ বা স্থানীয় সমীকরণ।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এভাবে আইন প্রয়োগে বৈষম্য চলতে থাকলে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়বে।
স্থানীয়রা জানায়, অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের অন্যতম দোসর ছিলেন। বিগতে সময়ে আওয়ামী যুবলীগের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন অনিয়ম, দূর্নীতি ও অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন কোম্পানির ও কয়েকজন ব্যবসায়ীর টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর সে নিজেকে এখন বড় সাংবাদিক জাহির করে বেড়াচ্ছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকীর জানান, আসামি যেই হোক তাকে গ্রেফতার করা হবে।
আইনের ঊর্ধে কেউ না।



