রকি হাসান, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো কিশোরগঞ্জেও বেড়েছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, পড়তে বসলে হঠাৎ করেই বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে—কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা পর আবার ফিরে আসছে। এতে প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে এবং মানসিক চাপও বাড়ছে।
অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে শ্রমজীবী মানুষের জীবনেও। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালকরা ঠিকমতো চার্জ দিতে না পারায় আয় হারাচ্ছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফ্রিল্যান্স পেশাজীবীরাও কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।
এসএসসি পরীক্ষার্থী আরাফাত জানায়, “পড়তে বসলে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরীক্ষার ফলাফলে প্রভাব পড়বে।”
অটোরিকশা চালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “আগে একবার চার্জ দিয়ে সারাদিন গাড়ি চালানো যেত। এখন বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো চার্জ হয় না, আয়ও অনেক কমে গেছে।”
ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি মো. সোহেল জানান, “সকালে কাজ শুরু করতেই বিদ্যুৎ চলে যায়। সময়মতো কাজ শেষ করতে না পারায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।”
স্থানীয়দের মতে, গরম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই এমন পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। তারা দ্রুত সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আতিকুজ্জামান চৌধুরী জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং বাড়ছে।
অন্যদিকে কিশোরগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, তাদের আওতায় প্রতিদিন প্রায় ২৪.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে এবং বর্তমানে সেই পরিমাণ বিদ্যুৎই সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সার্বিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবেলায় জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।



