শুক্রবার, এপ্রিল ২৪, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশতেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালককে থাপ্পড় মারার পর ইউএনও'র লাঠি হাতে ভিডিও...

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালককে থাপ্পড় মারার পর ইউএনও’র লাঠি হাতে ভিডিও ভাইরাল

ওয়াদুদ আহমেদ মিলু, লালমনিরহাট:

পাম্পে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালককে থাপ্পড় মারার পর এবার ইউএনও’র লাঠি হাতে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (ফেসবুক) ভাইরাল হয়েছে। লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান এ ঘটনা ঘটান। এদিকে তাঁর একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে নিন্দার ঝড় উঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ফুয়েল কার্ডের গরমিলের অজুহাতে এক মোটরসাইকেল চালককে থাপ্পড় দেওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার পাম্পে লাঠি হাতে তার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি গত পরশুদিনের (২১ এপ্রিল) বলে জানা গেছে। কালীগঞ্জের ভুল্যারহাট এলাকায় অবস্থিত ‘মোজাহার ফিলিং স্টেশনে’ ইউএনও শামীমা আক্তার জাহানকে হাতে লাঠি নিয়ে তদারকি করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তার মারমুখী অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে অপেশাদার আচরণের দৃশ্য দেখে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে চাপারহাট বাজারের ‘লুবানা ফিলিং স্টেশনে’ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে আসা নদী নামের এক গ্যারেজ কর্মচারীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। অসুস্থ এক কলেজ শিক্ষকের ফুয়েল কার্ড নিয়ে তেল নিতে এসে ইউএনও’র হাতে লাঞ্ছিত হন ওই যুবক।

অভিযোগকারী নদী বলেন, “আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় অসুস্থ এক শিক্ষকের কার্ড ও টাকা নিয়ে তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ইউএনও কার্ড চেক করার সময় কোনো কথা না বলেই আমাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। আমি কোনো অন্যায় করিনি, বিনা অপরাধে আমাকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
তবে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি শুধু তার গাড়ির চাবি নিয়েছিলাম, গায়ে হাত তুলিনি। সম্ভবত তার কাছে সঠিক কার্ড ছিল না। নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার অভিভাবকরা এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর বিকেলে লাঠি নিয়ে আসার বিষয়ে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।”

এদিকে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ শুধু বর্তমান কর্মস্থলেই নয়, বরং তার পূর্ববর্তী কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলাতেও রয়েছে। কালাইয়ে দায়িত্ব পালনকালে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ৫৫টি ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে সরকারের ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা চলমান রয়েছে। গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর দুদকের নওগাঁ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয় (মামলা নং-০৪)। অভিযোগ রয়েছে, কালাইয়ে থাকাকালীন কোনো যাচাই ছাড়াই ভুয়া নথিপত্রে স্বাক্ষর করে তিনি এই বিশাল অঙ্কের টাকা লোপাটে সহায়তা করেছিলেন।

এছাড়া কালীগঞ্জে যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন হাট-বাজার ইজারা ও সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক জনপ্রতিনিধি। এবার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ‘লাঠি হাতে’ তার এই আচরণ জেলাজুড়ে প্রশাসনের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে।
এ বিষয়ে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) রাশেদুল হক প্রধান জানান, ইউএনও’র আচরণ ও ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর বিষয় সম্পর্কে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। উপর মহলের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments