রবিবার, মে ৩, ২০২৬
spot_img
Homeসারাদেশকালুখালীতে মৎস্যজীবীদের ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

কালুখালীতে মৎস্যজীবীদের ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ কার্ডের চাউল বিতরনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। মৎস্যজীবিরা জানিয়েছেন,পদ্মা ও গড়াই নদী থেকে ঝাটকা আহরন বন্ধ রাখায় সরকার তাদের জন্য মানবিক সহায়তা হিসেব ১ শ ৬০ কেজি করে চাউল বিতরনের উদ্যোগ নেয়। গত মাসের শেষ সপ্তাহে এ বিতরন কাজ সম্পন্ন হয়। কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া, সাওরাইল ও কালিকাপুর ইউনিয়নের ৩শ ৬৩ জন জেলে এ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হন। গত সপ্তাহে রতনদিয়া ইউনিয়নের ২শ ১৩ জন ও সাওরাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৬৫ জন মৎস্য জীবির ১শ ৬০ কেজি করে চাউল বিতরন ঠিকমত সম্পন্ন হলেও গোল বাঁধে কালিকাপুর ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের মৎস্যজীবীরা জানায়,কালিকা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আতাহার আলী ও সচিব রবিউল ইসলাম তাদের বরাদ্দকৃত চাউল ১শ ৬০ কেজির পরিবর্তে ১শ কেজি করে প্রদান করেছে। সরেজমিন গিয়ে কথা হয়, সাতটা গ্রামের মৎস্যজীবি বারেক শেখ, বাক প্রতিবন্ধী মৎস্যজীবি সোবাহান শেখের স্ত্রী মরিয়ম বেগম, আবুল হোসেনের স্ত্রী লিপি বেগম এর সাথে। এরা এ প্রতিনিধিকে জানান, তারা সরকারের মানবিক সহায়তার ১শ ৬০ কেজি চাউল পাননি।পেয়েছেন,১শ কেজি করে।
পাড়া বেলগাছী গ্রামের মৎস্যজীবি আজগর আলী ও খোরশেদ মন্ডল জানান,তাদেরকেও চাউল কম দেওয়া হয়েছে।
পাড়া বেলগাছীর রবিউল সরদার জানান, আমাকে ১শ ৬০ কেজির স্থলে ১শ কেজি চাউল প্রদান করায় আমি তার প্রতিবাদ করি।এজন্য ইউনিয়ন পরিষদের সচিব রবিউল ইসলাম আমার ১শ কেজিও ফেরত নিয়ে নেন।
রবিবার সকালে বিষয়টি জানার জন্য ইউপি সচিব রবিউল ইসলামের নিকট গেলে তিনি এ ব্যাপারে তথ্য দিতে নারাজ হন।তিনি বলেন,তথ্য নিতে হলে তথ্য আইনে আবেদন করতে হবে। এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন ইউপি সদস্যদের সুপারিশ করার কারনে ৫ জনের চাউল কম দেওয়া হয়েছে।।তবে সেই ৫ মৎস্যজীবির নাম তিনি বলতে পারেননি।তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান ও আঃ রাজ্জাক বিষয়টি অস্বীকার করেন।
তারা জানান, কম দেওয়ার ব্যাপারে আমরা প্রতিবাদ করি। কিন্তু সচিব রবিউল ইসলাম তা শোননি।
মৎস্যজীবিদের চাউল বিতরন কাজের তদারকি কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র শীল জানান, বিতরনের দিন ১৯ মৎস্যজীবির চাউল বিতরন বন্ধ ছিলো।
পরবর্তীতে আমার উপস্থিতীতে এসব চাউল বিতরনের কথা ছিলো।কিন্তু আমাকে উপস্থিত না রেখেই বিতরন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

কালুখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) আনোয়ারুল ইসলাম পাইলট জানান, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আতাহার আলী ও রবিউল ইসলাম নিজেদের দায়িত্বে মৎস্যজীবিদের চাউল বিতরন করেছেন,তাই বিষয়টি নিয়ে তাদের সাথে কথা বলুন।
কালিকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক আতাহার আলী মৎসজীবিদের চাউল কম বিতরনের দায় নিতে অস্বীকার করেন।তিনি বলেন,ইউনিয়ন পরিষদের সচিব নিজ দায়িত্ব ২য় দিনের চাউল বিতরন করেন।এ কাজে অনিয়ম হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।
মৎস্যজীবিরা এ ঘটনার তদন্ত ও বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments