নিজস্ব প্রতিবেদক, নেত্রকোনা: নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক কওমি মাদ্রাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১২ বছরের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিশুটি বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং তার জীবন চরম স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান গত বৃহস্পতিবার মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে আমান উল্লাহ সাগর ওই মহিলা কওমি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। ভুক্তভোগী শিশুটি একজন বিধবা নারীর সন্তান এবং তার নানির কাছে থেকে ওই মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। গত নভেম্বর মাসে শিক্ষক সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন দেখে তার মা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ধর্ষণের ঘটনাটি সামনে আসে। স্থানীয় একটি ক্লিনিকে পরীক্ষার পর শিশুটি ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ১২ বছরের এই শিশুর শারীরিক গঠন পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় গর্ভাবস্থা ও প্রসব অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শিশুটির সরু কোমরের তুলনায় গর্ভস্থ বাচ্চার মাথার মাপ অনেক বেশি এবং তার রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণও কম। এমন অবস্থায় অস্ত্রোপচার (সিজার) বা অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া চিকিৎসকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকরা জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গত ১৮ এপ্রিল থেকে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর স্ত্রী-সন্তানসহ আত্মগোপনে রয়েছেন। ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আমরা দ্রুত তাকে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।”



