মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফরিদপুর মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা বিএনপি নেতার ভাঙারির দোকানে মিললো ভূমি অফিসের চোরাইকৃত সরকারি মালামাল। এসময় পুলিশ হালিম নামে একজনকে আটক করে।
দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোঃ আইয়ুব আলী খান এর ছোট ছেলের অনিকের ভাঙারির দোকান নামে পরিচিত।
দৌলতদিয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মোঃ জিলাল ও রাজিব জানান গতকাল পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক ছিল কিন্তু আজকে সকালে অফিসে এসে বিদ্যুতের তার কাটা দেখে অফিসে এসে দরজা ভাঙা ও জানালা কাটা দেখে উর্ধত্বন কতৃপক্ষকে জানালে তারা এসে দেখে অফিসের সবকিছু চুরি হয়ে গেছে। এ-সময় তারা চুরাইকৃত মালামাল দেখে অফিসের মালামাল বলে নিশ্চিত করেন।
থানা পুলিশ জানায়, তারা মালামাল চুরি দেখে প্রথমেই তারা লোকজন লাগিয়ে দেয় ভাঙারির দোকান গুলো খুজতে। তাদের মাধ্যমেই তারা সংবাদ পায় এই দোকানের। এ-সময় তারা গোয়ালন্দ উপজেলার ব্যাপারী পাড়ার এসপি আহাদের বাসা থেকে চুরাইকৃত মোটর এখান থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া এখানে বড় বড় ট্যাগ, মোটা পাইপসহ বিভিন্ন জিনিস দেখতে পাওয়া যায়। চুরাইকৃত এসব পন্য নিয়মিত এখানেই বেচাকেনা হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এছাড়া একটি কক্ষে আইয়ুব আলী খান, তার ছেলে আরিফ খান ও অনিক খানের ছবি দেখতে পাওয়া যায়। তাছাড়া এখানে ইয়াবা খাওয়ার বিভিন্ন সামগ্রী দেখতে পাওয়া যায়।
এ দোকানে আরও মোটর, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মূল্যবান যন্ত্রাংশ, ফ্যান, দরজা-জানালার গ্রিল, টিউবওয়েল, যানবাহনের যন্ত্রাংশ, সাইকেল-রিকশাসহ বিভিন্ন পরিবহনের চাকা, বিদ্যুত সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি, এল্যুমিনিয়াম ও তামার দ্রব্য, লোহারপাত ও পাইপ এবং রডসহ বিভিন্ন লৌহজাত দ্রব্য দেখতে পাওয়া যায়। এখানে আরও রয়েছে গ্যাসের সিলিন্ডার, রাস্তায় দিক নির্দেশনা সম্বলিত লোহার পাইপ এছাড়া দোকানে রান্নার ড্যাগএবং এগুলো প্রকাশ্যে বেচাকেনা হয় এবং প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে এসবের পেছনে স্থানীয় মাদকাসক্ত ছিচকে চোর, বখাটে মাদকাসক্ত যুবক, মাদকাসক্ত মহিলা ও শিশু-কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন অপরাধী সিন্ডিকেট সহযোগিতা দিয়ে আসছে।
গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মুনতাসির হাসান খান বলেন, ভাঙারির দোকানের থাকবে বিভিন্ন প্লাস্টিক, টিন ও পুরাতন জিনিসপত্র কিন্তু এখানে আমরা দেখছি মোটর, পাইপ, ফ্যান ও কম্পিউটারের মতো জিনিস। এসময় তিনি ১ ঘন্টার মধ্যে হারানো ১১ টি জিনিসের মধ্যে উদ্ধারকৃত ৯ টি পন্যের বাকি দুটি পন্য অর্থাৎ কম্পিউটার হাজির করার নির্দেশ দেন। অন্যথায় দোকান সিল গালাসহ অন্যান্য ব্যাবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।



