বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে গভীর নিম্নচাপে রূপ নিয়েছে, যার প্রভাবে সারা দেশে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। আজ দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টিপাত বেশি হলেও শুক্রবার থেকে উত্তরাঞ্চলেও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, গভীর নিম্নচাপের অবস্থান এখন ভারতের ওড়িশা সংলগ্ন উপকূলে। এর প্রভাবে দেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দর ও কক্সবাজারে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির কারণে ৭ জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বিভাগের গোমতী, মুহুরী, সেলোনিয়া ও ফেনী নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী দুই দিনে এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে, যার ফলে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলছেন, ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫–৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর (পুনঃ) সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ৯৫ মিলিমিটার, আর রাজধানীতে ১২ মিলিমিটার। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন, গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী তিন দিনের মধ্যে দেশের বিভিন্ন নদী ও নিম্নাঞ্চলে বৃষ্টিপাত এবং স্থানীয় বন্যার পরিস্থিতি চলতে পারে।



