শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬
spot_img
Homeজাতীয়বছরের শেষ সময়ে পেঁয়াজ নিয়ে হঠাৎ অস্থিরতা: সক্রিয় সিন্ডিকেট, কেজিতে দাম বাড়ল...

বছরের শেষ সময়ে পেঁয়াজ নিয়ে হঠাৎ অস্থিরতা: সক্রিয় সিন্ডিকেট, কেজিতে দাম বাড়ল ১০ টাকা

বছরের একেবারে শেষ সময়ে এসে পেঁয়াজের বাজার নিয়ে ফের অস্থিরতা শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম, যার পেছনে বাজার সিন্ডিকেটকে দায়ী করছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। বাজারে দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে পেঁয়াজের দাম স্থিতিশীল ছিল; এতদিন মানভেদে প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎ এই বৃদ্ধিতে পেঁয়াজ এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের জানান, আমাদেরই ৭৭ থেকে ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, গত বছরের এই সময়ের তুলনায় (১৩- ১৫০ টাকা) বর্তমান দাম ৪৬ শতাংশের বেশি কম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দীন নিশ্চিতভাবে এটিকে কারসাজি চক্রের কাজ বলে উল্লেখ করেছেন। কৃষি অধিদপ্তর জোর দিয়ে বলছে, বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই; কৃষকের হাতে এখনো পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ মজুত আছে। এছাড়া নভেম্বরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ এবং ডিসেম্বরের মধ্যে মুড়িকাটা পেঁয়াজ বাজারে আসবে। কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, দেশে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ বেশি—তবু কিছু ব্যবসায়ী আইপি (ইমপোর্ট পারমিট) পাওয়ার জন্য মরিয়া। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুর রহমান স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে আমদানির অনুমতি দিলে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন, তাই কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই তাদের প্রথম লক্ষ্য।

পেঁয়াজ আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ে প্রায় দুই হাজার আটশোর বেশি আবেদন জমা দিয়েছেন, কিন্তু সরকার এখনো আইপি দেয়নি। আমদানিকারকদের বক্তব্য, বছরের শেষ সময়ে বরাবরই সংকটের অভিজ্ঞতা থেকেই তারা আমদানি করতে চাচ্ছেন। এই অনুমতি না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হাইকোর্টে ১৪টি রিট আবেদন করেছিলেন, যার মধ্যে আটটি ইতোমধ্যে আদালত খারিজ করে দিয়েছে। হিলি বন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক বলেন, অনেক ব্যবসায়ী এলসি খুলে পেঁয়াজ বন্দরে এনে আইপি না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক বনি আমিন খান জানান, পেঁয়াজ আমদানির বিষয়টি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এবং বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া আইপি দেওয়া যায় না, ফলে সব আবেদন ফেরত দেওয়া হয়েছে। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইনও এই দাম বৃদ্ধির পেছনে আড়তদার, কমিশন এজেন্ট ও দাদন ব্যবসায়ীদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আশা করছে, দাম বাড়লেও তা কয়েকদিনের মধ্যে আবার স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments