কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার-হয়রানি করা যাবে না: হেফাজতে ইসলাম। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলার অভিযোগে কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার বা নির্যাতন করা যাবে না বলে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও আল্লামা সাজেদুর রহমান। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তারা বলেন, মার্কিন ওয়ার অন টেররের সিপাহি ও ভারতপন্থি হিসেবে সমালোচিত ও নিন্দিত প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা সহিংস হওয়া তারা সমর্থন করেন না, তবে পত্রিকা দুটিতে হামলার অভিযোগে কোনো নিরীহ সমালোচনাকারীকে গ্রেপ্তার, তুলে নিয়ে হয়রানি বা নির্যাতন করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে যারা নিরীহ সমালোচনাকারী, তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, অন্যথায় ভারতপন্থি পত্রিকা দুটির ওপর বাংলাদেশপন্থি ছাত্র-জনতার ক্ষোভ কমবে না, বরং আরও বাড়বে। বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শুধু একজনের পরিচয়ের সঙ্গে তার প্রাক্তন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা মাদরাসার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত শয়তানি হিসেবে তারা দেখছেন এবং এর তীব্র নিন্দা জানান। হেফাজত নেতারা বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান গ্রেপ্তার হলে প্রথম আলো সেটির ‘ন্যায্যতা’ উৎপাদনে সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছিল। ২০১৩ সালে শাহবাগের ফ্যাসিবাদের পক্ষে দালালি করা পত্রিকার সম্পাদক মতিউর রহমান সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়াকে ‘চ্যালেঞ্জ’ বলে উল্লেখ করেছেন, কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে তার পত্রিকা এখন ওয়ান ইলেভেনের মতো গণবিরোধী ফ্রেমিং ও বয়ান প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হচ্ছে। তারা কৌতুক করে বলেন, চব্বিশের ২৬ জুলাই ডেইলি স্টারে এক কলামে আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতাকে দমনে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারকে সহায়তা করতে উদগ্রীব সম্পাদক মাহফুজ আনাম আজ কোনো কোনো জুলাই নায়কের ‘কমরেড’ বনে গেছেন। হেফাজত নেতারা আরও বলেন, নিকট অতীতে দিগন্ত টিভি বন্ধ করে শত শত সাংবাদিককে বেকার করা হয়েছিল, সংগ্রাম পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করে প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদকে লাঞ্ছিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং নয়া দিগন্তের অফিসে আগুন দেওয়া হয়েছিল। সে সময় সুশীল নাগরিক সমাজ প্রতিবাদে রাস্তায় নামলে আজ তারা নৈতিক প্রশ্নের মুখোমুখি হতেন না। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশে ‘জঙ্গি’ ন্যারেটিভের গডফাদার প্রথম আলো এবং তার দোসর ডেইলি স্টার সেই ন্যারেটিভ বিদেশিদের কাছে উপস্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে পতিত ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে অগণিত আলেম, মাদরাসাছাত্র ও ধর্মপ্রাণ তরুণকে ‘জঙ্গিবাদে’র তকমা দিয়ে জেল-জুলুমের সম্মতি তৈরি করা হয়েছিল, যার দায় পত্রিকা দুটি কোনোভাবেই এড়াতে পারে না। ওয়ান ইলেভেনের সময় তাদের গণবিরোধী ভূমিকা আজও সতর্কতার স্মারক বলে উল্লেখ করে তারা বলেন, প্রথম আলো-ডেইলি স্টার নিছক গণমাধ্যম নয়, বরং দিল্লির সাউথ ব্লকের এজেন্ডা ও বিশেষ মতাদর্শিক রাজনীতির ফুটসোলজার হিসেবে কাজ করা প্রতিষ্ঠান। তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশপন্থি ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে বলে হেফাজতে ইসলাম ঘোষণা দেয়।



