শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার প্রশ্নে অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সমর্থকরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। মিছিলটি শাহবাগে পৌঁছানোর পর অবরোধকারীরা রাস্তা বন্ধ করে দিলে যান চলাচল পুরোপুরি থমকে যায় এবং মুহুর্মুহু স্লোগানে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শহীদ হাদির স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্যে জুমা বলেন, যে ভাইয়ের কণ্ঠে রাজপথে স্লোগান শুনতাম, আজ তাকে কবরে রেখে কথা বলতে হচ্ছে, যা পুরো ইনকিলাব টিমের জন্য অপূরণীয় শোক। তিনি বলেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অনেক নেতা তৈরি হলেও ওসমান হাদি কখনো নিজেকে নেতা বলেননি, সবসময় নিজেকে ইনকিলাবের একজন কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন, আর এই চরিত্রই তাকে মানুষের নেতা বানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, হাদির মৃত্যুর পরও তিনি আমাদের শক্তি, আমাদের স্লোগান ও আমাদের লড়াই। বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশাসন ও সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে জুমা বলেন, হাদির মৃত্যুর পর খুনিদের অবস্থান, পলায়ন কিংবা দেশে থাকার বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছেও কোনো স্পষ্ট চিত্র নেই, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বও আন্দোলনকারীদের পালন করতে হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন সরকারকে মানুষের টাকায় বসিয়ে রেখে কী লাভ। এ সময় চলমান আন্দোলনকে ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলা হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জুমা বলেন, একটি মহল ন্যায়বিচারের দাবিকে মব হিসেবে বিতর্কিত করতে চাইছে, অথচ শহীদের খুনিদের বিচারের দাবি জানানো কেন মব হবে। তিনি বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ কখনো সহিংসতায় জড়ায়নি এবং নির্বাচন পেছানোর অজুহাতে সহিংসতার কথা তুলে বিচার আটকে রাখার চেষ্টা চলছে। বক্তব্যের শেষাংশে তিনি বলেন, খুনি যত বড় শক্তিই হোক, তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে এবং শাহবাগ সাক্ষী থাকুক— যতক্ষণ পর্যন্ত শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ভাইয়ের বিচার না হবে, আমরা রাজপথ ছাড়ব না, ইনসাফ না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং এই বাংলার জমিনেই এই বিচার আদায় করা হবে।



