জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় শুরু হয়েছে। ভোট গণনা কোন পদ্ধতিতে হবে, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক কানিজ ফাতেমা কাকলী। তিনি বলেন, প্রথমে একটি কেন্দ্রের ভোট হাতে গণনা করা হবে। এরপর ওই কেন্দ্রের ভোটই দুই কোম্পানির দুটি ওএমআর মেশিনে গণনা করা হবে। হাতে গণনায় পাওয়া ফলের সঙ্গে যে মেশিনের ফল মিলবে, সেই মেশিন দিয়েই সব কেন্দ্রের ভোট গণনা আবার শুরু হবে। এর আগে রাত ৯টার দিকে ‘কারিগরি ত্রুটির’ কারণ দেখিয়ে ভোট গণনা স্থগিত করেন নির্বাচন কমিশনার ড. আনিসুর রহমান। এদিকে ভোর ৪টা পর্যন্ত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৭৮টি ভোট গণনা সম্পন্ন করতে পারেনি নির্বাচন কর্তৃপক্ষ।নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম বলেন, তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রায় ৩০০ ভোট কাস্ট হয়েছে—এমন একটি কেন্দ্রের ভোট প্রথমে ম্যানুয়ালি গণনা করা হবে। এরপর দুটি ওএমআর মেশিনের মাধ্যমে ওই ভোট গণনা করা হবে। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথমে নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২৭৮টি কাস্টিং ভোট দিয়ে নতুন করে ভোট গণনা শুরু করা হয়েছে। দুটি মেশিনের মধ্যে যেটির ফল ম্যানুয়াল গণনার সঙ্গে মিলবে, সেই মেশিনের মাধ্যমেই পরবর্তী কেন্দ্রগুলোর ভোট গণনা করা হবে।এর আগে সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৩টা পর্যন্ত। এবার জকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৬৪৫। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯টি কেন্দ্রের ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।উল্লেখযোগ্য প্যানেলগুলোর মধ্যে রয়েছে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ ও বামপন্থি সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’। এ ছাড়া একটি আংশিক প্যানেল ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।



