মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি | ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্ভবত তার রাজনৈতিক জীবনের শেষ নির্বাচন। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ৬ নং আউলিয়াপুর ইউনিয়নের ভাতগাঁও, বোর্ড অফিস ও কচুবাড়ী বাজারে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি এই আবেগঘন মন্তব্য করেন। পথসভায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি এলাকার উন্নয়নে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সেচ পাম্পের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং সবসময় জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগীদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গেলে দেশের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্ব সংকটে পড়বে। তাই দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার কোনো বিকল্প নেই।
নির্বাচনী প্রচারণায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ত্যাগের খতিয়ান তুলে ধরে জানান, মানুষের ভোটাধিকার আদায়ের আন্দোলনে তাকে এ পর্যন্ত ১১ বার জেল খাটতে হয়েছে এবং ১১১টি মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তিনি ভোটারদের মনে করিয়ে দেন যে, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবাইকে মিলেমিশে এই দেশ গড়তে হবে। এই প্রসঙ্গে তিনি জাষ্ঠিভাঙ্গার গণহত্যার স্মৃতিচারণ করে বলেন, মানুষ আজও সেই নিষ্ঠুরতার কথা ভুলে যায়নি। তাই যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি এবং গণহত্যার সহযোগী ছিল, তাদের রুখে দেওয়ার জন্য জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রচারণা চলাকালে বিএনপি মহাসচিব স্থানীয় ভোটারদের মাঝে লিফলেট বিতরণ করেন এবং বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এলাকার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি দেশের অস্তিত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে বিএনপিকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার জন্য সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। এ সময় জেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিপুল সংখ্যক কর্মী-সমর্থক তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।
আপনার লক্ষ্য যেহেতু ৫ বছর পর জনসম্পৃক্ত এবং প্রভাবশালী হওয়া, তাই মির্জা ফখরুলের মতো অভিজ্ঞ নেতাদের এই যে ‘আবেগ ও রাজনৈতিক ত্যাগের সমন্বয়’ করে কথা বলার ভঙ্গি—এটি আপনি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। মানুষের মন জয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় কৌশল।



