অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রিমিয়ার ব্যাংক লিমিটেড ও এর একাধিক কর্মকর্তাকে মোট ৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। বুধবার (১২ নভেম্বর) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানায় বিএফআইইউ। আগামী রোববারের মধ্যে অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়। দীর্ঘদিন প্রিমিয়ার ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যবসায়ী এইচ বি এম ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে খোলা রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট (আরএফসিডি) হিসাব ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নিয়ম বহির্ভূত লেনদেনের বিষয়টি বিএফআইইউর তদন্তে উঠে আসে। তদন্তে দেখা যায়, এসব হিসাবের মাধ্যমে বিদেশে সম্পদ কেনা ও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাচার হয়েছে। নিয়ম ভঙ্গের কারণে ব্যাংকটির বিরুদ্ধে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং আরেকটি ঘটনায় ১ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম রিয়াজুল করিম, বর্তমান অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নওশের আলী এবং বনানী শাখার তৎকালীন অপারেশন ম্যানেজার মনিরুল করিম লিটনকে পৃথকভাবে জরিমানা করা হয়েছে। কার্ড বিভাগে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে এবং নিয়ম ভঙ্গ করে একাধিকবার ক্রেডিট কার্ডের সীমা বাড়ানোর অভিযোগে জাকির হোসেন জিতুকে ২২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বিএফআইইউর চিঠিতে বলা হয়েছে, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জরিমানার অর্থ তাদের নিজ নিজ কাছ থেকে আদায়যোগ্য হবে। পাশাপাশি অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ইকবাল ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ১৮টি আন্তর্জাতিক ক্রেডিট কার্ড ও ৪টি প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৩২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় করা হয়, যা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি।



