আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্ব পালনের জন্য দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) নির্বাচন লটারি পদ্ধতিতে চূড়ান্ত করেছে সরকার। সোমবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’তে ম্যানুয়াল লটারির মাধ্যমে এসব এসপি নির্বাচন করা হয়। খুব শিগগিরই পর্যায়ক্রমে তাঁদের নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লটারি প্রক্রিয়ায় উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা এবং প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা।
যেভাবে এসপি নির্বাচন হলো
সূত্র জানায়, প্রথমে অতীতে যেসব কর্মকর্তা বিভিন্ন জেলায় এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর পুলিশ ক্যাডারের ২৫, ২৭ ও ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে যাচাই-বাছাই করে একটি “ফিট লিস্ট” প্রস্তুত করা হয়। সেই তালিকা থেকে লটারির মাধ্যমে জেলা-ওয়ারি এসপি বাছাই করা হয়।
আগামী দিনে ধাপে ধাপে তাঁদের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে পদায়ন করা হবে বলে জানা গেছে।
নির্বাচনের আগে বড়সড় বদলি–পদায়ন প্রক্রিয়া
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ফেব্রুয়ারিতেই মাঠ প্রশাসনে (জেলা পুলিশ) বড় ধরনের রদবদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে উপযুক্ত কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরি করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এ কারণে গত সপ্তাহে ছয় জেলায় নতুন নিয়োগ পাওয়া এসপিদের যোগদানও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তাঁদের ক্ষেত্রেও একই লটারি পদ্ধতি কার্যকর করা হবে।
পক্ষপাত এড়াতেই লটারির পদ্ধতি
গত ১৯ নভেম্বর নির্বাচন কমিশনের সংলাপে মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে পরিবর্তনের দাবি উত্থাপন করে কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তাদের সেই প্রস্তাবের পর সরকার প্রক্রিয়াটি গ্রহণ করে।
২ ঘণ্টার বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত
শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে নির্বাচনী সময়ে পুলিশের বদলি ও নিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালার খুঁটিনাটি আলোচনা হয়। ওই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় সোমবার চূড়ান্তভাবে লটারি করা হয় বলে জানা গেছে।
কখন পদায়ন?
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লটারিতে যেসব এসপি নির্বাচিত হয়েছেন, তাঁদের পর্যায়ক্রমে জেলা-ওয়ারি নতুন দায়িত্বে পাঠানো হবে। দ্রুতই এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হবে।



