ওবায়দুল কাদেরসহ সাবেক ১৩ সচিবের বিরুদ্ধে পুনর্বাসন প্রকল্পের ফ্ল্যাট নিজেদের জন্য বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে মামলা করতে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাট সস্তায় নেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর দুদকের এনফোর্সমেন্ট অভিযানে অভিযোগের সত্যতা মেলে। সোমবার বেলা ৩টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) আক্তার হোসেন। দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আবাসন নির্মাণের লক্ষ্য নিয়ে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করে এবং গেজেটে পুনর্বাসনের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও, সেটি ব্যবহার করা হয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৯৯ বছরের লিজে আবাসিক প্রকল্প তৈরিতে—যা আইনবহির্ভূত এবং কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার বাইরে। মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সেতু কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, বিদ্যুৎ বিভাগের সাবেক সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. আবদুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক অর্থ সচিব ও সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোফাজ্জল হোসেন, ইআরডির সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আজম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। দুদক জানায়, অভিযুক্তরা অসৎ উদ্দেশ্যে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রতারণার মাধ্যমে নিয়মবহির্ভূতভাবে এই সম্পদ অর্জন করেছেন।



