রোববার রাত ৯টায় একরাশ নীরবতার মধ্য দিয়ে পর্দা নামল এবারের অমর একুশে বইমেলার। সমাপনী দিনে সাধারণত পাঠকদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও এবারের চিত্র ছিল একেবারেই ভিন্ন। মেলার শেষ দিনে প্রত্যাশিত জনস্রোত চোখে পড়েনি। সন্ধ্যার পর কিছুটা ভিড় বাড়লেও স্টলে স্টলে জটলা ছিল সামান্য। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত বছরের শেষ দিনে সরকারি ছুটি থাকলেও এবার তা ছিল না। এছাড়া সামনে ঈদ থাকায় মানুষের মনোযোগ কেনাকাটার দিকে চলে যাওয়াও মেলার শেষ দিনটি প্রাণহীন হওয়ার অন্যতম কারণ।
এবারের মেলার শুরু থেকেই প্রকাশকদের মধ্যে এক ধরনের অগোছালো ভাব লক্ষ্য করা গেছে। তড়িঘড়ি করে মেলায় যুক্ত হওয়া এবং সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে ১৮ দিনের এই যাত্রায় কিছুটা ঘাটতি ছিল। আজ রাত ৯টা বাজার আগেই অনেক প্রকাশনীকে তাদের বই গুছিয়ে বাক্সবন্দী করতে দেখা যায়। মুক্তধারা প্রকাশনীর কর্মীরা জানান, দেখতে দেখতেই মেলা শেষ হয়ে গেল, এখন আবার এক বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা।
মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব ড. সেলিম রেজা সমাপনী প্রতিবেদনে জানান, তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী ১৪ মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭৭টি নতুন বই জমা পড়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে বেশি। মোড়ক উন্মোচিত বইয়ের সংখ্যা ২৫২টি। গত বছর যেখানে ৩ হাজার ২৯৯টি নতুন বই এসেছিল, সেখানে এবার বই প্রকাশের সংখ্যা ও বিক্রিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
১৭ দিনে বাংলা একাডেমি মোট ১৭ লাখ ৪ হাজার ৬২৯ টাকার বই বিক্রি করেছে। অংশগ্রহণকারী ৫৭০টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এবার আনুমানিক মোট বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি টাকা, যা গত বছরের ৪০ কোটি টাকার তুলনায় অর্ধেকেরও কম। এবারের নতুন বইয়ের তালিকায় কবিতার আধিপত্য ছিল সবচেয়ে বেশি (৭৭১টি), বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা নিয়ে বই প্রকাশের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য।
মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি জানান, সরকার প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক লাইব্রেরি এবং জেলা পর্যায়ের মতো উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রতিষ্ঠার বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য দেন মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।



