নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগ, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এবং পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজে এসব সহিংসতা ঘটে। গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামে ‘গুপ্ত লেখা’ নিয়ে শুরু হওয়া বিবাদের জের ধরে সারা দেশের ক্যাম্পাসগুলোতে এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) দুই নেতা এবি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে উত্তেজনা থেকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হলে ডাকসুর সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক এবং সমাজসেবা সম্পাদক জুবায়ের থানার ভেতরে আশ্রয় নেন। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা থানার ভেতরে ঢুকে মোসাদ্দেকের ওপর হামলা চালায়, এতে তিনি আহত হন।

এদিকে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘গুপ্ত শিবির’ বলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছে। জানা গেছে, নাফিস আব্দুল্লাহ নামে এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় অধ্যক্ষের কক্ষে বিচারের দাবিতে যায় শিবির কর্মীরা। তাৎক্ষণিক বিচার দাবি নিয়ে উত্তেজনার একপর্যায়ে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় পক্ষ। এতে ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে ছাত্রদল এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিবাদ বলে দাবি করেছে।

একই দিনে দুপুরে পাবনার ঈশ্বরদী সরকারি কলেজেও ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালীন গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণে পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই সংঘর্ষকেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলা হলেও শিবিরের দাবি, ‘গুপ্ত লেখা’ নিয়ে বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজেও একই ইস্যুতে সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছিলেন, যার রেশ এখনো কাটেনি।



