নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: সরকারের অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির বিপরীতে আয়ের গতি মন্থর হয়ে পড়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর নির্ভরতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার কার্যত নতুন টাকা ছাপিয়ে ব্যয় মেটাচ্ছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহ কমে যাবে এবং মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে প্রচণ্ড চাপ তৈরি হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে পিআরআই কার্যালয়ে ‘ম্যাক্রোইকোনমিক ইনসাইটস: বাণিজ্য ও প্রবৃদ্ধির জন্য পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সংস্থাটির মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসেই সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে, যা মূলত নতুন সৃষ্ট অর্থ। প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গত দেড় বছর অর্থনীতি এক ধরনের ভঙ্গুর পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে গেলেও তার ভিত্তি এখনো দুর্বল। চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৩ শতাংশে, যা করোনা মহামারির পর সর্বনিম্ন। মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, এলডিসি উত্তরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতির অনিশ্চয়তা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী চাপে ফেলছে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, রপ্তানি আয় হ্রাস এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বহির্বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে পিআরআই চেয়ারম্যান ড. জাইদি সাত্তার বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং বর্তমান বাস্তবতায় ২০২৬ অর্থবছরে ৪.৭৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধিই যুক্তিসংগত। এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলোর অধিকাংশকেই ‘আত্মসৃষ্ট’ বলে মন্তব্য করেন। বক্তারা দ্রুত আর্থিক খাতে সংস্কার, স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ব্যাংকনির্ভরতা কমিয়ে বন্ড বাজার শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়াতে জাহাজ নির্মাণশিল্পের মতো সম্ভাবনাময় খাতে নীতিগত সহায়তা ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। নীতিনির্ধারণী স্পষ্ট সংকেত না থাকলে প্রবৃদ্ধির গতি আরও শ্লথ এবং কর্মসংস্থানের ওপর চাপ বাড়বে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেন বিশেষজ্ঞরা।



