রাজশাহী মহানগর বিএনপির সম্মেলন হয়েছিল গত ১০ আগস্ট। সেই দিনই পুরোনো আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো গঠিত হয়নি নতুন কমিটি। এতে সংগঠনটি কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, মতবিরোধ এবং কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্বের কারণে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে।
সম্মেলনের পর বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিভাগের সমন্বয়কারী আব্দুস সালামের নির্দেশে পুরোনো আহ্বায়ক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তখন জানানো হয়েছিল, নতুন কমিটি ঘোষণার আগ পর্যন্ত সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলীম ও এএইচএম ওবায়দুর রহমান চন্দন দায়িত্ব পালন করবেন। কিন্তু এখনও কেন্দ্র থেকে নতুন কমিটি ঘোষণার কোনো খবর আসেনি।
রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, “আমরা সাংগঠনিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা হবে।”
ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, “সম্মেলন শেষ হয়েছে, এখন কেন্দ্র যাচাই-বাছাই করছে। সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য কমিটি হবে বলে আমরা আশাবাদী।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এরশাদ আলী ঈশা বলেন, “তারেক রহমানের সিদ্ধান্তেই নতুন কমিটি ঘোষণা হবে। কিছু সাংগঠনিক সমস্যা থাকলেও দলের কাজ চলছে।”
তৃণমূল কর্মীদের অনেকে বলছেন, “আমরা এখন তাকিয়ে আছি কেন্দ্রের দিকে। দ্রুত যোগ্য নেতৃত্ব আসলে সংগঠনে নতুন প্রাণ আসবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন ফিরোজ বলেন, “রাজশাহী বিএনপি ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী ইউনিট। কিন্তু নেতৃত্বহীনতা কর্মীদের হতাশ করছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে এর প্রভাব জাতীয় রাজনীতিতেও পড়তে পারে।”
বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত বলেন, “নেতৃত্বশূন্যতা নেই। কিছুটা বিলম্ব হলেও দলের কাজ নিয়মমতো চলছে। আশা করছি, নির্বাচনের আগে নতুন কমিটি ঘোষণা হবে।”



